ভোলায় চিরনিদ্রায় সমাহিত তোফায়েল আহমেদ
শেষ বিদায় জানাতে ভোলায় তোফায়েল আহমেদের জানাজায় মানুষের ঢল - নিজস্ব ছবি

ভোলায় চিরনিদ্রায় সমাহিত তোফায়েল আহমেদ

ফন্ট সাইজ:

ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ও কোরালিয়া বাড়ির চত্বরে অনুষ্ঠিত পৃথক দু’টি জানাজায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে লাখো জনতা বিদায় জানালেন ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের মহানায়ক মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক তোফায়েল আহমেদকে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ২টায় জানাজার আগে তোফায়েল আহমেদের জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহীন ও আওয়ামী লীগ নেতা হামিদুর রহমান বাহালুল, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ইউনুছ, সাবেক পৌর মেয়র সালাউদ্দিন লিংকন, মাইকে ঘোষণা দিয়ে বলেন, তোফায়েল আহমেদ একক রাজনৈতিক দলের নেতা নন।

তিনি ভোলাবাসীর অভিভাবক ছিলেন। তার জানাজায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি (বিজেপি), জামায়াতে ইসলামসহ সবদলের সব পেশার মানুষ অংশ নেয়ায় কৃতজ্ঞতা জানান তারা। জানাজায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর।

জানাজার আগে জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব মো. রাইসুল আলম, বিএনপি’র সাবেক সম্পাদক হারুন অর রশিদ টুমেনসহ নেতৃবৃন্দ জানাজাস্থলে এসে সমবেদনা জানান। জানাজায় অংশ নেয়ার পাশাপাশি সমবেদনা জানান, জেলা বিজেপি’র সভাপতি আমিরুল ইসলাম রতন, ওই দলের সম্পাদক মোতাছিন বিল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মো. মনিরুল ইসলাম, ভোলা বারের সম্পাদক ড. আমিরুল ইসলাম বাছেদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনজুর আলমসহ বিভিন্ন দলের ও পেশার প্রতিনিধিরা।

গার্ড অব অনার: জেলা প্রশাসনের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুজ্জামান ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি গার্ড অব অনার প্রদর্শন করেন। এ সময় বিউগলের করুণ সুর স্তব্ধ করে মাঠের লাখো মানুষকে। প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো দেখার জন্য জেলার ৭ উপজেলা থেকে ছুটে আসেন সাধারণ মানুষও। জেলায় দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে তোফায়েল আহমেদের গ্রামের বাড়ি জেলা সদর উপজেলা দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোরালিয়া গ্রামের বাড়ির চত্বরে। এখানে জানাজা শেষে বিকালে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা, মা ও স্ত্রী-র কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হন বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের কালজয়ী নেতা তোফায়েল আহমেদ। এদিকে গ্রামের বাড়িতে তার মরদেহ পৌঁছলে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্থানীয় সমর্থকরা। জানান শেষ শ্রদ্ধা।

যুবদলের ঝটিকা মিছিল: এদিকে দুপুর ১২টার দিকে জেলা যুবদলের কিছু নেতাকর্মী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়। এমন সংবাদ পেয়ে জেলা বিএনপি’র শীর্ষ নেতারা দ্রুত ওই মাঠে গেলে যুবদলকর্মীরা সটকে পড়েন। আগের রাতেও তারা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আব্দুর রহিম ও ছাত্রদল নেতা নূরে আলম হত্যার বিচার দাবি করে মিছিল করে। অপরদিকে জেলা ছাত্রদল সম্পাদক তার ফেসবুক আইডিতে ঘোষণা দিয়ে পোস্ট দেন তারা মাঠের চারপাশে থাকবেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি: বরিশাল জোনের ডিআইজিসহ পুলিশের টিম, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ডের টিম, র‌্যাব সদস্যরা মাঠের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেয়।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন