লালমনিরহাট সীমান্তে উত্তেজনা

লালমনিরহাট সীমান্তে উত্তেজনা

ফন্ট সাইজ:

টানটান উত্তেজনা আর আতঙ্ক লালমনিরহাট সীমান্তে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে বিএসএফের খুঁটি নির্মাণের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের কাটছে নির্ঘুম রাত। অনেকেই রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে বসতবাড়ি।

সীমান্ত গ্রামবাসীর অভিযোগ বিএসএফ সদস্যরা মানছে না আন্তর্জাতিক সীমানা আইন। তারা প্রতিনিয়ত করছে আইন লঙ্ঘন। বিজিবিকে না জানিয়ে তারা রাতের আঁধারে সীমান্তে নোম্যান্সল্যান্ডে বাংলাদেশের অংশে সড়ক নির্মাণের খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা করছে। এতে বিজিবি বাধা দিলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পাটগ্রাম সীমান্তের ওপার থেকে খবর পাওয়া গেছে বিএসএফ জমি দখল চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে পুশইনের জন্য চেষ্টা চালাবে। পুশইনের জন্য ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে বাংলা ভাষাভাষীদের জড়ো করছে।

সূত্রটি জানায়, একেক দিন একেক সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করবে বিএসএফ। জানা গেছে পাটগ্রাম কুচলিবাড়ী সীমান্তের কলসিরমুখে গত ২২শে মে ভোররাতে বিএসএফ বিজিবিকে না জানিয়ে খুঁটি স্থাপন করে। বিজিবি খবর পেয়ে ওই খুঁটি তুলে ফেললে উত্তেজনা দেখা দেয়। এর পরে সীমান্তে শুরু হয় কথাকাটাকাটি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মাঝে। সীমান্তের ওপারে অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন করে বিএসএফ সদস্যরা। বিজিবিও প্রস্তুতি নেয়। এ সময় গ্রামবাসীরাও বিজিবি’র পাশে দাঁড়ায়। বিজিবি’র অ্যাকশনে পিছু হটে বিএসএফ সদস্যরা। ওই সীমান্তে বিএসএফ ৩ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। এ সময় বিজিবি দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি করলে তারা ভারতে পালিয়ে যায়। পরদিন ২৩শে মে দহগ্রাম সীমান্তে আবারো তিন বিঘার পাশে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের জন্য খুঁটি বসানোর চেষ্টা করে। খবর পেয়ে বাধা দেয় বিজিবি ও গ্রামবাসী। বিজিবি-বিএসএফ জড়িয়ে যায় তর্কে। বিজিবি’র কড়া প্রতিবাদের কারণে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যায় বিএসএফ। লালমনিরহাট ৫১ বিজিবি ব্যটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল নাজিউর রহমান জানান, বিএসএফ সদস্যদের বারবার খুঁটি দিতে বাধা দেয়ার পরেও তারা বাধা মানছে না। এ নিয়ে ব্যাটালিয়ান পর্যায়ে ফ্লাগ মিটিং হয়েছে।

ওদিকে সীমান্তে একের পর বিএসএফের জমি দখলের চেষ্টা ও জমিতে ধান কাটতে গেলে বিএসএফ ধাওয়া দেয়ার ঘটনায় দহগ্রামের ২০ হাজার মানুষ আতঙ্কে রয়েছে বলে জানান ওই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন। এ ছাড়াও তিন বিঘা করিডোর আন্দোলনের নেতা রেজা মাস্টার জানান, দহগ্রাম নিয়ে বিজেপি বিধায়ক এর দহগ্রাম বন্ধ করে দেয়ার হুমকি খুবই দুঃখজনক। এভাবে হুমকির কারণে রাতে ঘুম নেই দহগ্রাম সীমান্ত গ্রামবাসীর।

দহগ্রামের রমিচা বেগম জানান, রাতে লাঠিসোঠা নিয়ে বাড়ি পাহারা দিচ্ছি। দহগ্রাম ইউনিয়নের গ্রামবাসী বছর উদ্দিন, ছকমল ও রহিম মিয়া জানান, বিএসএফ সদস্যরা সীমানা পেরিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে বাংলাদেশের সড়কে এসে দাঁড়িয়ে থাকে। এতে সীমান্তে নারী-পুরুষ ভয়ে ভায়ে থাকতে হয়। দহগ্রামের রহিম বকস জানান, অনেকেই বাড়ির বিবাহযোগ্য মেয়েদের সরিয়ে রাখছেন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে। ওদিকে গত ১৩ই মে হাতিবান্ধা আমঝোল সীমান্তে ভারতীয় শীতলকুচি সীমান্তের বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশি যুবক খাদেমুলকে গুলি করে হত্যার করে।

খাদেমুল হত্যার পর সীমান্তে ক্ষেত খামারে যেতে পাচ্ছে না কৃষকরা। গোতামারী ইউপি চেয়ারম্যান মোনাব্বের হোসেন মোনা জানান, সীমান্তের নিকট অনেকের জমি রয়েছে। অনেক ধান পেকে গেছে- সেই ধান কাটতে সাহস পাচ্ছে না । এ ছাড়াও পাটগ্রামের ধবলগুড়ি সীমান্তে গরু খাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে ভারতীয় বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশি গ্রামবাসীদের লাঠি দিয়ে মারপিট করে। এভাবে লালমনিরহাট জেলায় ২৮৪ কিলোমিটার সীমান্ত জুড়ে বিএসএফের হিংস্রতা বেড়েই চলছে।

লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, সীমান্তে উত্তেজনা বন্ধে বিএসএফকে কয়েকবার জানানো হয়েছে। সীমান্তের নিকটে প্রয়োজন ছাড়া গ্রামবাসীদের না যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মুহা রাশেদুল হক প্রধান জানান, সীমান্তে কঠোর অবস্থানে থাকার বিষয়ে বলা হয়েছে। বিএসএফের নানান কর্মকাণে সরকারের উপর মহলে জানানো হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন