সিলেটের পর্যটন বদলে দিতে মন্ত্রী আরিফের থিওরি

সিলেটের পর্যটন বদলে দিতে মন্ত্রী আরিফের থিওরি

ফন্ট সাইজ:

সিম্পল থিওরি। কাজও বেশি নয়। আর তাতেই সিলেটের পর্যটনকে বদলে দিতে চান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এবারের ঈদে তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন নিজের সংসদীয় আসনে। এ আসনটি হচ্ছে বাংলাদেশের পর্যটনের পরিচিত স্থান। সাদাপাথর, বিছনাকান্দি, জাফলং, লালাখাল ও রাতারগুল তারই আসনের অধিভুক্ত। এবার ঈদে এসব এলাকায় বিপুলসংখ্যক পর্যটক ছুটে গিয়েছিলেন। অভিজ্ঞতাও তিক্ত। এবার তীব্র গরম। অনেক পর্যটক অসুস্থও হয়ে যান। প্রশাসনের কোনো সহযোগিতাই পাননি। আর পাবেনই কেমন করে। এসব স্পটে এখনো গড়ে উঠেনি পরিবেশ বান্ধব পরিবেশ। নেই, নেই এবং নেই। কোনো সুবিধাই নেই।

এবারের ঈদেও সিলেটের এসব পর্যটন এলাকা ঘুরে বেড়িয়েছেন এলাকার সংসদ সদস্য, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। প্রতিটি স্পট ঘুরে দেখেছেন। এবার মন্ত্রী এসব পর্যটনস্পট নিয়ে সিম্পল থিওরি দিয়েছেন। বলেছেন; খুব বেশি উন্নয়নের প্রয়োজন নেই। সেটির সুযোগও কম। যেহেতু প্রবাহমান নদী। প্রকৃতির সঙ্গে অনেক স্থাপনা সাংঘর্ষিক হতে পারে। পর্যটকদের চাহিদাও খুব বেশি নয়। তিনি বলেন- প্রতিটি পর্যটনস্পটে একটি সার্ভিস সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই সার্ভিস সেন্টারের ভেতরে থাকবে আধুনিক বাথরুম ও ওয়াশরুম, গ্রোসারিজ শপ, ফাস্টফুডের শপ ও কিড জোন। আর এই সুবিধা বাড়াতে খুব বেশি চিন্তাভাবনার প্রয়োজন নেই। সহজেই সেটি করা যায়। ইতিমধ্যে এই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করা হবে। যদি সব কিছু ঠিক থাকে তাহলে আগামী শুষ্ক মৌসুমে প্রতিটি পর্যটন স্পটে এই সুবিধা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এদিকে মন্ত্রীর পরিকল্পনায় রয়েছে সিলেট-৪ আসনকে পর্যটন সিটিতে পরিণত করা। আর সেটি করতে পারলে ওই এলাকায় পর্যটন কেন্দ্রিক বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে।

এর মধ্যে সবার আগে প্রয়োজন কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরের একটি সংযোগ ড্রাইভ। এই ড্রাইভের সঙ্গে সংযোগ থাকবে সব পর্যটন কেন্দ্রের। ওই ড্রাইভ বা সড়ক ব্যবহার করে পর্যটকরা সহজেই তাদের পছন্দের পর্যটন স্পটে চলে যেতে পারবেন। এ দুটি কাজ করা হলে সিলেটের ওই এলাকার পর্যটন দ্রুতই বদলে যাবে বলে মনে করেন তিনি। এর জন্য খুব বেশি পরিকল্পনারও প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য তার। তিনি জানান- প্রধানমন্ত্রী একটি বদলে যাওয়া বাংলাদেশের জন্য কাজ করছেন। তার এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে সিলেটের পর্যটন শিল্পে উন্নয়নে যুগান্তকারী উন্নয়ন পরিকল্পনা চলছে। আশা করা যাচ্ছে আগামী এক বছরের মধ্যে এর দৃশ্যমান ফলাফল মানুষ দেখতে পারবে।

এদিকে সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর অনেক ছোট নদী ও খাল রয়েছে জানিয়েছে মন্ত্রী আরিফুল হক জানান- সারি, গোয়াইন, কাপনাসহ কয়েকটি নদী সীমান্ত থেকে নেমে এসেছে। হাওর এলাকায় গিয়ে কোনো কোনো খালের অস্তিত্ব থাকছে না। এসব খাল খননের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। খাল খননের মাধ্যমে তিন উপজেলার পর্যটন এলাকা নতুন রূপ পাবে বলে জানান তিনি। এদিকে- এবার মন্ত্রীর উদ্যোগে সিলেটের সাদাপাথর এলাকার প্রবেশমুখ ১০ নম্বর এলাকা নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। এরই মধ্যে কিছু কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে।

পর্যটকদের জন্য একটি বিশ্রামাগার নির্মাণ করা হয়েছে। মন্ত্রী জানিয়েছেন- ১০ নম্বর ঘাটকে আরও আধুনিক ও পর্যটন বান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এতে করে যারা ব্যবসায়ী তারাও সুবিধা পাবে, আগত পর্যটকরা খুব দ্রুত সেবা পাবেন। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- সাদাপাথর নিয়ে মাস্টারপ্ল্যান করা হচ্ছে। ওই এলাকাকে পর্যটনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন করে দোকানপাট নির্মাণ, খালি জায়গায় বৃক্ষরোপণসহ পর্যটকদের জন্য বিশ্রামাগার গড়ে তোলা হবে। এই প্ল্যান বাস্তবায়িত হলে দেশের সব অঞ্চলের মানুষের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে দেশের অন্যতম এই পর্যটন কেন্দ্র। গত শনিবার জৈন্তাপুর এলাকা পরিদর্শনের সময় উপজেলা সদরকে পৌরসভা ও জৈন্তার ঐতিহাসিক রাজবাড়ীকে জাদুঘর করার ঘোষণা দেন মন্ত্রী। এতে করে জৈন্তাপুরের কয়েক বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি উন্নয়নের ছোঁয়াও লাগবে এলাকায়।

ট্যাগসমূহ:

Adv Lukman Ahmed

১ মাস আগে

পর্যটন স্পট নিয়ে মন্ত্রীর দেওয়া থিওরিটা সত্যিই সহজ। পরিকল্পনাটা ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করলে ট্যুরিজম সেক্টর ও স্থানীয় অবকাঠামোতে বড় ধরনের উন্নতি হবে, পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

মন্তব্য করুন