গ্রীষ্মের জাত চেনাচ্ছে রংপুরের প্রকৃতি। মেঘমুক্ত আকাশে সূর্যের তপ্ত আলো পড়ছে মাটিতে। আর এতেই হাঁসফাঁস প্রাণিকুল। খরতাপে যেন থমকে গেছে জীবন চাকা। একটু স্বস্তি পেতে গাছের ছায়ার নিচে ঠাঁই নিচ্ছেন জীবিকার সন্ধানে ঘর থেকে বের হওয়া খেটে খাওয়া মানুষ। থেমে থেমে মৃদু বাতাস বইলেও গরমের কারণে তা স্বস্তিদায়ক হচ্ছে না। দিন দিন তাপমাত্রার পারদের ঊর্ধ্বমুখিতা উৎকণ্ঠা ছড়িয়েছে মানুষের মনে। তাপদাহে ঘরে ঘরে জ্বর, সর্দি, কাশি, পেটের নানা অসুখে ভুগছেন মানুষ।
বিশেষ করে তাপদাহে বেশি ভুগছেন বৃদ্ধ ও শিশুরা। দেশের অন্য বিভাগের তুলনায় কৃষি প্রধান রংপুর সবুজ হওয়া ও বৃক্ষের আচ্ছাদন থাকা সত্ত্বেও তীব্র গরম অনুভূত হওয়া ভাবিয়ে তুলছে সচেতনদের। তবে রংপুরে তীব্র গরম অনুভূত হওয়ার কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছে আবহাওয়া অফিস। সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে উষ্ণ পরিবেশ থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রংপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৈশ্বিক উষ্ণতার সঙ্গে রংপুরেও বাড়ছে তাপমাত্রা। কয়েক বছর আগে রংপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত সোম ও মঙ্গলবার জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মে মাসে মাত্রাতিরিক্তি বৃষ্টিপাতের পর অসহনীয় গরম মানুষ ও প্রাণিকুলকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। রংপুরে তাপদাহের পেছনে কয়েকটি কারণের মধ্যে একটি ক্রমবর্ধমান অবকাঠামোগত উন্নয়নকে চিহ্নিত করা হয়েছে। রংপুর বিভাগ, সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক বহুতল ভবন নির্মাণ হচ্ছে।
এসব অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম থেকে তৈরি হওয়া ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধূলিকণা বাতাসে উড়ে বেড়ায়। জ্যৈষ্ঠের এ দিনে মেঘমুক্ত আকাশ থাকায় সূর্যের তপ্ত আলো পড়ছে ভূমিতে। সেই সমস্ত ধূলিকণা ও বহুতল ভবনগুলো তাপ ধরে রাখছে এবং বিকালে সূর্যের তীব্রতা কমার পর তা প্রকৃতিতে ছেড়ে দিচ্ছে। ফলে দিন ও রাতে সমানতালে গরম অনুভূত হচ্ছে। এ ছাড়া উত্তরের নদ-নদীগুলো পানির অভাবে মরে যাচ্ছে। এতে করেও উষ্ণতা বাড়ছে। ওদিকে অবকাঠোমগত উন্নয়নের কারণে বৃক্ষনিধন হচ্ছে। যানবাহনের কার্বন-ডাই-অক্সাইড বাতাসে মিশে পরিবেশকে করছে উত্তপ্ত।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি, আমাদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নদ-নদীর মরণদশাসহ নানা কারণে রংপুরে তাপদাহ বাড়ছে।
এটি আমাদের জন্য এলার্মিং বিষয়।
রংপুর সমাজিক বন বিভাগের সাবেক রেঞ্জ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন বলেন, রংপুর অঞ্চলে বৃক্ষের পারিবারিক আচ্ছাদন থাকলেও সেটি পর্যাপ্ত নয়। গাছের সঙ্গে বৃষ্টির একটি সম্পর্ক রয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় গাছ না থাকায় কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিপাত হচ্ছে না। আবার শহরে গাছ না থাকায় রোদ সরাসরি মাটিতে আসছে। ফলে বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে। তাই সকলকে গাছ রোপণের দিকে নজর দিতে হবে।
