ইরানের সঙ্গে উত্তেজনায় ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির দ্বিধা স্পষ্ট

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনায় ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির দ্বিধা স্পষ্ট

ফন্ট সাইজ:

ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে সামনে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির দ্বিধা। শান্তির আহ্বানের পাশাপাশি সামরিক হামলার হুমকি দেয়ায় তার অবস্থান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে বোর্ড অব পিস জোটের বৈঠকে ট্রাম্প ইরানকে সতর্কবার্তা দেন। মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আনার লক্ষ্যে এই জোট গঠন করেছিলেন তিনি নিজেই। তবে একই মঞ্চে শান্তির কথা বলা এবং সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়ায় কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
ট্রাম্প বলেছেন, তিনি কূটনৈতিক সমাধান চান এবং একটি চুক্তির মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির অবসান দেখতে চান। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, চুক্তিতে পৌঁছানো ইরানের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের বক্তব্য আরও কঠোর হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর এই প্রথম মধ্যপ্রাচ্যে এত বড় মার্কিন সামরিক সমাবেশ দেখা যাচ্ছে। ইরানের আশপাশে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান মোতায়েনের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়। ওই অভিযানে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা হয়। ফলে ইরান নিয়ে ট্রাম্পের হুমকিকে কেবল কৌশলগত চাপ হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকেরা।

ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করতে পারে- এটি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের প্রধান লক্ষ্য। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নেতৃত্বাধীন সরকার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও অভ্যন্তরীণ চাপে রয়েছে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে আলোচনার ইঙ্গিত দিলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন বন্ধের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্র অনড় থাকায় আলোচনা স্থবির হয়ে আছে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, গত বছর জুনে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। তবে নতুন করে হামলার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।
সম্ভাব্য অভিযানে ইসরাইলের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা চলছে। গত সপ্তাহে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন।

দেশীয় রাজনীতিতেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প বিদেশি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর সিরিয়া, ভেনেজুয়েলা ও ইরানে সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালালে তা আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন