আলোচনার মাঝেই নতুন সংঘাতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

আলোচনার মাঝেই নতুন সংঘাতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

ফন্ট সাইজ:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহ থেকে বলে আসছিলেন যে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত চুক্তি যেকোনো সময় হতে যাচ্ছে। এ নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে গত শুক্রবার সিচুয়েশন রুমে দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন ট্রাম্প। তবে বৈঠক শেষ হলেও এখন অবধি ট্রাম্পের চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি। উল্টো আলোচনার মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ইরানের গোরুক শহর এবং কেশম দ্বীপে রাডার ও সামরিক স্থাপনার বিরুদ্ধে ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ চালিয়েছে।
সপ্তাহান্তে চালানো এই হামলা সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে সেন্টকম দাবি করেছে, ইরানের আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের জবাবে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করার পর এ পদক্ষেপ নেয়া হয়।

সেন্টকমের দাবি, অভিযানে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং দু’টি একমুখী হামলাকারী ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সামরিক সরঞ্জাম আঞ্চলিক জলপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য স্পষ্ট হুমকি তৈরি করছিল। তবে এ হামলার বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে এসব হামলার জবাবে মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এনিয়ে ফার্স নিউজ এজেন্সি বলেছে, এই হামলার লক্ষ্য ছিল এমন একটি বিমান ঘাঁটি, যেখান থেকে ইরানের পূর্ব হরমোজগান প্রদেশের সিরিক দ্বীপে একটি টেলিকম টাওয়ারে আঘাত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন সেনাবাহিনী হরমোজগান প্রদেশের সিরিক দ্বীপে একটি যোগাযোগ টাওয়ারে হামলা চালানোর এক ঘণ্টা পর আইআরজিসি’র অ্যারোস্পেস বাহিনী সেই বিমানঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়। তবে আইআরজিসি ওই বিমানঘাঁটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করেনি।

এদিকে ইরানে সর্বশেষ মার্কিন হামলার পর ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে বলেছেন, ইরান সত্যি একটি চুক্তি করতে চায় এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভালো হবে।
গত ৮ই এপ্রিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপরেও দফায় দফায় দেশ দুইটির মধ্যে পাল্টাপাল্টি হয়েছে। তবে সর্বশেষ এই হামলা ঘিরে উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে।

সম্ভাব্য চুক্তিতে আরও সংশোধন চান ট্রাম্প
যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে আরও সংশোধন আনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, সংশোধনগুলো মূলত হরমুজ প্রণালি এবং ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি হোয়াইট হাউস।

সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববারের সংশোধনীগুলো মার্কিন প্রস্তাবে ট্রাম্পের আনা তৃতীয় দফার পরিবর্তন।

এর আগে গত শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস প্রথম যে খসড়া চুক্তির কথা প্রকাশ করে, তাতে ৬০ দিনের জন্য সহিংসতা বন্ধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করার একটি কাঠামো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কূটনৈতিক অগ্রগতি হলে ইরানের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হতে পারে। ফলে দেশটি স্থগিত বা জব্দ হয়ে থাকা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সম্পদে প্রবেশাধিকার পেতে পারে।

‘শত্রুর ওপর কোনো আস্থা নেই’
এদিকে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ রোববার বলেন, ইরানের অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত না হলে তেহরান কোনো চুক্তিতে সম্মত হবে না।
তিনি বলেন, কূটনৈতিক যুদ্ধক্ষেত্রের সেনারা শত্রুর কথা ও প্রতিশ্রুতির ওপর কোনো আস্থা রাখে না। আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো বাস্তব ও দৃশ্যমান অর্জন। সেগুলো নিশ্চিত হলেই আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করবো।

দুই পক্ষের কড়া অবস্থান ও দাবি ঘিরে চুক্তি নিয়ে অচলাবস্থা চলছে। উভয় দেশই তাদের দাবি থেকে পিছু হটছে না। কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। সেই সঙ্গে ইরানের নেতারা যুক্তরাষ্ট্রকে কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে চায় না। যদিও দুই দেশের মধ্যে প্রধান মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান মাসব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে এরমধ্যে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি প্রেসিডেন্টের প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হলে সামরিক হামলা আবার শুরু হতে পারে।

তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য আমাদের অস্ত্রভাণ্ডার যথেষ্ট প্রস্তুত রয়েছে। শুধু ওই অঞ্চলে নয়, সারা বিশ্বেই। কারণ আমরা উন্নত ও অধিকসংখ্যক উভয় ধরনের অস্ত্রের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন