দেশের বিভিন্নস্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত হয়েছেন। গতকাল জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল, নাটোরের সিংড়া, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, যশোরের মনিরামপুর এবং পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের ১০ জনই মোটরবাইক আরোহী।
জয়পুরহাট প্রতিনিধি জানান, ক্ষেতলালে দ্রুতগতির একটি পিকআপ ভ্যানের চাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও একজন। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় নিশ্চিন্তা-চানপাড়া সড়কের খড়িকাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেনÑকালাই উপজেলার সরাইল খন্দকার পাড়া গ্রামের ইমন খন্দকার (২৯), হারুঞ্জ গ্রামের ফেরদৌস হোসেন (১৩)। আহত সুরাইয়া (১৯) ইমন খন্দকারের স্ত্রী। ক্ষেতলাল থানার ওসি মুক্তারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহত ইমন তার স্ত্রী সুরাইয়া ও শ্যালক ফেরদৌসকে নিয়ে মোটরসাইকেলে পাঁচবিবি খালার বাড়িতে যাচ্ছিলেন। ঘটনাস্থলে রাস্তায় খড় থাকায় মোটরসাইকেল পিছলে পড়ে যায়। এসময় চান পাড়া থেকে ছেড়ে আসা একটি পিকআপ মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই ইমন মারা যান। স্থানীয়রা ফেরদৌসকে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সুরাইয়া কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।
নাটোর প্রতিনিধি জানান, সিংড়ায় ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেলের তিন আরোহী নিহত হয়েছেন। গতকাল সকাল ৬টার দিকে সিংড়া উপজেলার নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের বন্দর আমতলা ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঝলমলিয়া হাইওয়ে থানার ওসি মাহাবুবুর রহমান জানান, সকাল ৬টার দিকে নাটোর থেকে মোটসাইকেলে তিন আরোহী সিংড়া যাচ্ছিলেন। এসময় বগুড়া থেকে ছেড়ে আসা আমবোঝাই একটি ট্রাক নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের আমতলা ব্রিজ এলাকায় মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই জীবন আলী ও মুক্তার হোসেন হীরা নামে মোটরসাইকেলে থাকা দুই যুবকের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হয় সাইফুল ইসলাম। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, ফটিকছড়িতে বাস, সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল ৯টায় উপজেলার চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের পাইন্দং আমতলী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এসময় আহত আরও কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতরা হলেনÑউপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের মোটরসাইকেল মেকানিক শাহজাহান (৪৫) ও তার ছেলে মো. আরিফ (২২)। এদিকে দুর্ঘটনার খবরে ক্ষুব্ধ জনতা চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে দুর্ঘটনায় ঘাতক বিআরটিসি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। এসময় চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কে ২ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে সেনাবাহিনী, থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে পরিস্থিতি শান্ত করে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বিআরটিসি বাস ও একটি সিএনজি অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে গুরুতর আহত হন শাহজাহান ও তার ছেলে। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে দুজনের মৃত্যু হয়। ফটিকছড়ি থানার ওসি মোহাম্মদ রবিউল হোসাইন দুইজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহতদের মরদেহের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই ঘটনার বিআরটিসি’র বাস চালককে আটক করেছে পুলিশ।
স্টাফ রিপোর্টার, যশোর থেকে জানান, যশোরের মণিরামপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ যুবক নিহত হয়েছেন। রোববার রাত সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার রাজগঞ্জ সড়কের তালতলা নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- উপজেলার কাশিমনগর ইউনিয়নের নাদরা গ্রামের ইসমাইলের ছেলে রাকিব (২৭) এবং কামরুজ্জামানের ছেলে মেহেদী হাসান (২৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাকিব ও মেহেদী মোটরসাইকেলে করে রাজগঞ্জ বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সামনে থাকা আরেকটি মোটরসাইকেলকে ওভারটেক করার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় মোটরসাইকেলটির গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগলে তারা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দু’জনকেই মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে মণিরামপুর থানার ওসি আবু সাঈদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ ঘটনায় মণিরামপুর থানায় ইউডি মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর তাদের লাশ স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, পর্যটন নগরী পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জিসান (১৭) নামের এক কিশোর নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় রাব্বি (১৮) ও আবির (১৬) নামে আরও দুই কিশোর আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে মিম নামের এক পথচারী পর্যটক ও গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুয়াকাটার লেম্বুরবন মাঝিবাড়ী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জিসান শরীয়তপুরের পালং থানার কাসাপুর গ্রামের আমির হোসেন শেখের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের সূত্রে জানা যায়, সকালে জিসান, রাব্বি ও আবির মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ এক পথচারী নারী পর্যটক রাস্তা পারাপার করছিলেন। তাকে বাঁচাতে গিয়ে মোটরসাইকেল চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে মোটরসাইকেলটি সড়কে ছিটকে পড়ে। এতে মোটরসাইকেলে থাকা তিনজন গুরুতর আহত হন। একই সঙ্গে ওই পথচারী নারীও আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কুয়াকাটা হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক জিসানকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে মহিপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) অনিমেষ হালদার বলেন, মরদেহের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঘটনার তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
