প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে ব্যাখ্যা

ফন্ট সাইজ:

গত ৯ই মে দৈনিক মানবজমিন-এ প্রকাশিত ‘ওয়ান ইলেভেনের ময়না তদন্ত, জাতিসংঘের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা এবং মইনের প্রেসিডেন্ট হওয়ার খায়েশ’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনের একাংশের প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা দিয়েছেন মেজর জেনারেল (অব.) মো. রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী। আইনজীবীর মাধ্যমে পাঠানো প্রতিবাদপত্রে তিনি বলেন, ২০০৭ সালের ১১ই জানুয়ারি (১/১১) বিকালে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরুর আগেই জেনারেল মইন ইউ আহমেদ ও তার সহযোগীরা তৎকালীন রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীকে এনএসআই-এর মহাপরিচালক পদ থেকে অবিলম্বে অপসারণের আদেশে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন। ফলে, ২০০৭ সালের ১১ই জানুয়ারি সন্ধ্যা থেকেই তাকে তার দায়িত্ব থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেয়া হয় এবং তার কমান্ড কেড়ে নেয়া হয়। বাইরের সমস্ত যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে তাকে কঠোর নজরদারিতে (কার্যত গৃহবন্দি) রাখা হয়।

প্রতিবাদপত্রে আরও বলা হয়, তাৎক্ষণিক বরখাস্তের খবরটি তৎকালীন শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকাসমূহে লাল কালিতে প্রধান শিরোনাম হিসেবে এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছিল। এ ছাড়া পরবর্তীকালে সশস্ত্রবাহিনী সদর দপ্তর কর্তৃক রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীকে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ (পিএনজি) বা ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ ঘোষণা করা হয়। ফলে সমস্ত সেনানিবাসে তার প্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয় এবং সামরিক কর্মীদের তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে নিষেধ করা হয়। এই ঘটনাটিও জাতীয় গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছিল।

প্রতিবাদপত্রে বলা হয়, ১/১১-এর অসাংবিধানিক ক্ষমতা দখলের বিরুদ্ধে রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীর আপসহীন প্রতিরোধ এবং বিরোধিতার কারণেই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল, শাস্তি দেয়া হয়েছিল এবং আকস্মিকভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী ছিলেন ১/১১ সরকারের প্রধান ভুক্তভোগী, যাকে পেশাগত জীবনে বিশাল মূল্য দিতে হয়েছে। তাই কোনোভাবেই তাকে এই শাসনের সুবিধাভোগী বা সহ-ষড়যন্ত্রকারী বলা চলে না। ফলে তাকে এই অভ্যুত্থানের পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিত্রিত করা পুরোপুরি বাস্তবতার উল্টো।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন