ঈদ আনন্দকে ঘিরে ধর্মেশ্বর মহেশা দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয় ৮১তম বর্ষপূর্তি উৎসব পালন করেছে। রংপুর কাউনিয়া উপজেলার মীরবাগে এ উৎসবকে ঘিরে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, যুবক-যুবতী, তরুণ-তরুণীসহ প্রবীণ-নবীন প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল হয়ে উঠেছিল আনন্দমুখর।
অনুষ্ঠানকে ঘিরে সাজানো হয় বিশাল প্যান্ডেল। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, প্রফেসর, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ীসহ উচ্চপদস্থ সর্বস্তরের পেশাজীবীরা দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা ভুলে ফিরে যান কৈশোরের সোনালী দিনের স্মৃতিতে। পুরাতন বন্ধুদের পেয়ে বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা দিনভর জটলা বেঁধে গল্প, খুনসুটি আর স্মৃতিচারণে মেতে ওঠেন। এ যেন এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অনেকে বয়সের ভারে ন্যূব্জ হয়ে পড়লেও আয়োজনে মনের দিক থেকে ছিলেন চিরযৌবনা। অনুষ্ঠানে প্রায় ৭ হাজার প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্য অংশ নেন। ৮১ বছর বয়সী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উৎসব উদ্যাপন পর্ষদের প্রধান সমন্বয়ক ডা. জামাল উদ্দিন মিন্টুর প্রতি এমন আয়োজন সম্পন্ন করাকে স্বাগত জানান- উৎসবে অংশগ্রহণকারীরা। সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সূচনা করেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আশহার আলী। উৎসবের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন, উৎসব উদ্যাপন কমিটির সদস্য সচিব আবুল কাশেম।
বিকালে দ্বিতীয় অধিবেশনে বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম, শিক্ষক সংবর্ধনায় প্রাক্তন ছাত্র সহিদার রহমানসহ অন্যরা তাদের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানকে সার্থক করতে নেয়া হয় ব্যাপক পরিকল্পনা। আনন্দ র্যালি, উন্মুক্ত আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, খেলাধুলা, মুক্তমঞ্চে বিভিন্ন ব্যাচ ভিত্তিক স্মৃতিচারণ ও ফটোসেশন, বিভিন্ন স্টল প্রদর্শনী সকলকে করেছে আপ্লুত। ১৯৭২ ব্যাচের শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম বলেন, ৮১ বছর পূর্তির উৎসব ছিল বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রাণের উৎসব। এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সকলে অংশগ্রহণ করেছেন। আমরা সিনিয়র-জুনিয়র মিলে-মিশে একাকার হয়ে গেছি। এমন আয়োজন অতীব প্রয়োজন ছিল। আমি মনে করি আয়োজন সফলভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে।
