ঈদুল আজহারের ছুটিতে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঈদের নামাজ আদায়ের পর করেছেন বাবা-মা ও ভাইয়ের কবর জিয়ারত। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার পাশাপাশি নিজেই গাড়ি চালিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন রাজধানী। পর্যবেক্ষণ করেছেন রাজধানীর কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম। বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার প্রধান জামাতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি যান শেরেবাংলা নগরে। সেখানে বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন তিনি।
এ সময় তার সঙ্গে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন। প্রথমে প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণী একান্তে কবর জিয়ারত করেন এবং ফাতেহা পাঠ করে মোনাজাতে অংশ নেন। এরপরে দলের নেতাদের নিয়ে কবরে ফাতেহা পাঠ করে এবং বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন তারেক রহমান। পরে বাবা-মায়ের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী এজেডএম জাহিদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা একেএম শামসুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল আলম মিল্টন, সংসদ সদস্য এসএম জাহাঙ্গীরসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। পরে শেরেবাংলা নগর থেকে প্রধানমন্ত্রী যান বনানীতে তার ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর কবরস্থানে।
সেখানে গিয়ে ফাতেহা পাঠ করে মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন। বনানীতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সহধর্মিণী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ আরও কয়েকজন ছিলেন।
সেনানিবাসে প্রীতিভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী: দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে অফিসার ও সৈনিকদের এক প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের জিয়া কলোনিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ‘মৃত্যুঞ্জয়ী পঁচিশ’ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এই প্রীতিভোজের আয়োজন করে।
এতে অফিসার ও সৈনিকেরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর অফিসার, সৈনিক এবং তাদের সন্তানদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে তারেক রহমান পঁচিশ মৃত্যুঞ্জয়ী ভবনের সামনে একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
পিলখানায় নিহত সেনাদের কবর জিয়ারত: ঈদুল আজহার দিন বনানী সেনা কবরস্থানে গিয়ে পিলখানায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিন বাবা-মা-ভাইয়ের কবর জিয়ারতের পরে সকাল সোয়া ৯টায় প্রধানমন্ত্রী ও তার স্ত্রী বনানী সামরিক কবরস্থানে যান। প্রধানমন্ত্রী তার স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুর নৌবাহিনী সাবেক প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের কবর জিয়ারত করেন এবং মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী এবং জুবাইদা রহমান যান পিলখানায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের কবর প্রাঙ্গণে। সেখানে স্মৃতিস্তম্ভের সামনে দাঁড়িয়ে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন তারা। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সমাজকল্যাণমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।
ওদিকে ঈদের পরের দিন রাজধানীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে কোরবানির পশুবর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম নিজে পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার প্রেস উইং জানিয়েছে, শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী নিজেই গাড়ি চালিয়ে বিভিন্ন সড়কের পরিস্থিতি দেখেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, রাজধানীর কোরবানির বর্জ্য অপসারণ প্রক্রিয়া ভালোভাবে হচ্ছে কি না তা দেখতে বের হন তিনি। নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি গুলশান এভিনিউয়ের বাসা থেকে বেরিয়ে গুলশান-১ নম্বর মোড় হয়ে হাতিঝিল, রামপুরা রোড, মালিবাগের আবুল হোটেল দিয়ে তালতলা মার্কেট হয়ে বাসাবোর দিকে যান বলেন প্রেস উইং।
এরপর কমলাপুর স্টেডিয়াম, সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড, যাত্রাবাড়ী মোড়, ধোলাই খাল হয়ে শহীদ ফারুক সড়ক, দয়াগঞ্জ সড়ক দিয়ে নারিন্দা হয়ে রায়সাহেব বাজার মোড় দিয়ে আদালত সড়ক দিয়ে নয়া বাজার, বংশাল রোড হয়ে গুলিস্তান, শাহবাগ, এলিফেন্ট রোড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে নিউ মার্কেট হয়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরি থেকে ডান দিকে কলাবাগান, মিরপুর রোড, সিটি কলেজের সামনে দিয়ে সীমান্ত স্কয়ার হয়ে জিগাতলা বাসস্ট্যান্ড দিয়ে ধানমন্ডি সাত মসজিদ রোড, ২৭ নম্বর সড়ক দিয়ে মানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে পান্থপথ, ফার্মগেট, বিজয় সরণি হয়ে মহাখালী সড়কের পরিস্থিতিও দেখেন প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর গাড়িতে ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির বিশেষ সম্পাদক মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন মৃধা ও প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মো. মেহেদুল ইসলাম।
ঢাকায় এ বছর প্রায় ৭ লাখ পশু কোরবানি হয়েছে বলে সরকারের ধারণা। তাতে ৫৫ হাজার টনের বেশি বর্জ্য তৈরি হবে। এই বিপুল বর্জ্য দ্রুততম সময়ে সরাতে দু’দিন ধরে কাজ করছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন।
রাস্তায় জমে ছিল বর্জ্য, দুই কর্মকর্তাকে সরানোর নির্দেশ: রাজধানীর কয়েকটি স্থানে কোরবানির পশুবর্জ্য অপসারণের কাজ ঘুরে দেখার মধ্যেই দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তাকে অপসারণ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই দুই কর্মকর্তারা হলেন- ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (জোন-৫) আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ছাদেকুর রহমান (উপসচিব) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (জোন-১) আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সালেহ মুস্তানজির (উপসচিব)।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং কোরবানির পশুবর্জ্য ব্যবস্থাপনা দেখতে বেরিয়েছিলেন। তিনি কয়েকটি স্থানে বর্জ্য অপসারণ না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন। হাতিরপুল, এলিফ্যান্ট রোডে এবং গ্রিনরোড, ফার্মগেট ও কাওরান বাজার এলাকায় রাস্তায় ময়লা জমে থাকায় দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
