সরকার বদলাচ্ছে বদলাচ্ছে না অনিয়ম

ফন্ট সাইজ:

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চম্পাপুর ইউনিয়নের দেবপুর এলাকায় তীব্র ভাঙনকবলিত রাবনাবাদ নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। স্বাভাবিকভাবেই ভাঙনের কারণে সেখানকার এলাকার কৃষি জমিসহ বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অন্তত চারশ’ পরিবার বাড়িঘর ও জমিজমা হারিয়েছে নদীভাঙনের কারণে। ওই নদী থেকে অব্যাহত বালু উত্তোলনে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। স্থানীয়রা জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বালু উত্তোলন কিছু সময় বন্ধ ছিল। এখন আবার দিনে-রাতে বালু উত্তোলন চলছে। নদীতীরের মানুষ এ কারণে বাড়িঘর ফসলি জমি নদীগর্ভে দ্রুত বিলীনের শঙ্কায় শঙ্কিত। তারা চরম উৎকণ্ঠা প্রকাশ করছেন।

সরকারের ঘোষিত নির্দিষ্ট বালুমহাল (খাজুরা) থেকে বালু উত্তোলন করার নিয়ম থাকলেও গায়ের জোরে একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। স্থানীয় আরও জানান, গত নয় বছর আগে থেকে এই নদীতে বালু উত্তোলন প্রক্রিয়া শুরু হয়। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের এমপি-মন্ত্রীর সহোচররা শত শত কোটি টাকার বালু উত্তোলন করে অবৈধ পন্থায় বিত্তবৈভব গড়ে তোলে। ওই সরকারের পতন হলেও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি। প্রশাসনের গাফিলতি কিংবা সংশ্লিষ্টতার কারণে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন কখনো থামেনি। কয়েকটি প্রভাবশালী মহল এখনো এই অবৈধভাবে রাবনাবাদ নদী থেকে বালু উত্তোলন প্রক্রিয়া চলছে। ফলে রাবনাবাদ পাড়ের অন্তত দশ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়িবাঁধের অর্ধেকটা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বাঁধের পাশের বাসিন্দারা জানান, বছরের পর বছর রাবনাবাদ নদী থেকে অসংখ্য ড্রেজারের বালু কাটায় এখানটায় ভাঙনের ঝুঁকি বেড়েছে। প্রবল ভাঙনে সব শেষ হয়ে গেলেও বালু কাটা বন্ধ হয়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরের দেয়া তথ্যমতে, কলাপাড়া উপজেলার ৫৪/এ পোল্ডারের গোটা বেড়িবাঁধটিই রাবনাবাদ নদীর ভাঙনে প্রতিবছর বিলীন হচ্ছে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বালু কাটা একটি গ্রুপ জানান, তারা ধানখালী সংলগ্ন রাবনাবাদ নদী থেকে একেক ট্রিপে তিন হাজার সিএফটি বালু কেটে আনছেন। এভাবে নির্দিষ্ট বালুমহাল ‘খাজুরা’ বাদ রেখে যে যার মতো অতি ভাঙনপ্রবণ নদী ইলিশের আহরণ ক্ষেত্র দীর্ঘ রাবনাবাদ চ্যানেলের বিভিন্নস্থান থেকে ড্রেজার লাগিয়ে বালু উত্তোলনে কৃষিজমি, বাড়িঘর বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক জানান, সরকার নির্দিষ্ট বালুমহাল আন্ধারমানিক নদীর সাগর মোহনায় ‘খাজুরা’ বালুমহাল রয়েছে, যা ইজার দেয়া হয়। যেখান থেকে প্রতি বছর সরকার কমপক্ষে ৬৮ লাখ টাকার রাজস্ব আয় করে থাকে। ওই বৈধ বালুমহালটি প্রায় ২৫৩ একর এরিয়া জুড়ে বিস্তৃত রয়েছে। এই একমাত্র বৈধ বালুমহাল ছাড়া আর কোন নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হলে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন