রমজানের শুরুতেই চট্টগ্রামের নিত্যপণ্যের বাজারে ‘রোজার উত্তাপ’। অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে লেবুর দাম। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় চারগুণ মূল্যবৃদ্ধিতে বিক্রি হচ্ছে লেবু। বাজারে ছোট লেবুর হালি এখন ৮০ থেকে ১০০ টাকার নিচে মিলছে না, আর মাঝারি ও বড় লেবুর দাম পৌঁছেছে ১২০ থেকে ২০০ টাকায়। এ ছাড়া ব্রয়লার মুরগির দামে হঠাৎ আগুন লেগেছে। কেজিতে প্রায় ৩৫ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকায়। নির্বাচনের আগে যে মুরগি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় পাওয়া যেত, সেটি এখন ২০০ টাকার ঘর ছুঁয়েছে। বাড়তি দামে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। নগরীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, দুই সপ্তাহ আগে যেখানে এক হালি লেবু ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, সেখানে গত সপ্তাহে দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৮০ থেকে ১০০ টাকা। বর্তমানে সর্বনিম্ন ৬০ টাকা থেকে শুরু করে অনেক জায়গায় ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও বড় আকারের লেবুর হালি ১২০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হলেও দরদাম করে ক্রেতারা প্রায় ১৫০-১৬০ টাকায় কিনছেন। ৩০-৪০ টাকার শসা এখন ৬০ টাকা। গত সপ্তাহে ৪০ টাকা কেজির শিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। কয়েকদিন আগেও ২০-২৫ টাকার ফুলকপি এখন কেজিপ্রতি ৮০ টাকা। বরবটি ১২০ টাকা, পেঁপে ৬০ টাকা, বেগুন ৭০ টাকা, গাজর ৬০ টাকা এবং করলা ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে কেজিতে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। ২৫০ গ্রাম ধনে পাতার দামও ২০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ টাকায় পৌঁছেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০৫ টাকায়। চিনি ১০৫-১১০ টাকা, চিকন মসুর ডাল ১৬২ টাকা, মোটা মসুর ডাল ৯০-৯৫ টাকা, মুগ ডাল ১৭০ টাকা, লাল চিড়া ৮০ টাকা, সাদা চিড়া ৬০ টাকা, খেসারির ডাল ৯০ টাকা, সাদা মটর ৬০ টাকা, চানার ডাল ১০০ টাকা, দেশি পিয়াজ ৭০ থেকে ৮০ টাকা, চীনা রসুন ১৫০-১৫৫ টাকা, আদা ১৪০ টাকা, সয়াবিন তেল ১৯৫ টাকা, ২ লিটার ৩৯০ টাকা ও ৩ লিটার ৫৮৫ টাকা। এদিকে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২০০ টাকা এবং সোনালি ৩৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে ২৯৫ টাকা দরে। জানা গেছে, গত সপ্তাহেও ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সোনালি মুরগির দাম ছিল ৩০০ টাকা। তবে নির্বাচনের পরদিন থেকেই ব্রয়লারের দাম ২০০ টাকা ছুঁয়েছে। বর্তমানে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ টাকা কেজি দরে। খামারিরা জানান, গত বছরের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানভেদে ব্রয়লার মুরগির প্রতিটি বাচ্চা বিক্রি হয়েছে ২২ থেকে ২৫ টাকায়। এ বছরের জানুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। দুই সপ্তাহ আগেও এক দিনের বাচ্চার দাম ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। চলতি সপ্তাহে সেই দাম বেড়ে হয়েছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ফয়েজ উল্ল্যা বলেন, রমজানকে সামনে রেখে একশ্রেণির ব্যবসায়ী পরিকল্পিতভাবে দাম বাড়াচ্ছে। ফোনে ফোনে পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণ করে পণ্যের দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত অভিযান চলছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
এদিকে, রমজানকে সামনে রেখে বিপুল পরিমাণ ভোগ্যপণ্য আমদানি হলেও সেগুলো সময়মতো বাজারে পৌঁছাতে পারছে না। চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় বর্তমানে ১১০টি জাহাজ ভাসমান রয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ৫৫টি জাহাজে রয়েছে চাল, ডাল, ছোলা, খেজুর, চিনি, তেল, ফলমূলসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য। আসছে দু’দিনে আরও ১০টি জাহাজ নোঙর করার কথা রয়েছে। রমজানের পাইকারি বেচাকেনার মূল কেন্দ্র খাতুনগঞ্জ। শবেবরাতের পরবর্তী ১৫ দিন সেখানে সবচেয়ে বেশি কেনাবেচা হয়। কিন্তু টানা কর্মবিরতি ও নির্বাচনী ছুটির কারণে আমদানিকারকরা প্রত্যাশিত সময়ে পণ্য খালাস করতে পারেননি।
হামিদ উল্লাহ মিয়া মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিছ বলেন, রমজানকে কেন্দ্র করে বিপুল পণ্য আমদানি হলেও সব বাজারে আসেনি। ধর্মঘটের কারণে পণ্য আটকে আছে, আবার কিছু জাহাজেই মজুত রাখা হয়েছে। ফলে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। বন্দরে ভাসমান অনেক জাহাজের পণ্য রমজানের আগে পাইকারি বাজার ধরতে পারবে না বলেও আশঙ্কা করছেন তিনি।
