মৌলভীবাজারে হঠাৎ দাম বাড়লো লেবু ও কলার

ফন্ট সাইজ:

লেবুর রাজ্যে এখন লেবুর দর ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। প্রতি হালি কাগজি ও জাড়া লেবু (মধ্যম) বিক্রি হচ্ছে ১০০ ও ৫০০ টাকা। আর সাতকরা প্রতি হালি ৪০০ থেকে ১২০০ টাকায়। প্রতি বছর রমজান আসলেই অস্বাভাবিক দর বাড়ে লেবু ও কলার। এরইসঙ্গে বাড়ে শসা, বেগুন, কাঁচামরিচ ও নাগামরিচসহ অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যের। তবে এ বছর রোজার শুরুতেই লেবুর এমন আকাশচুম্বী দামে বিব্রত ক্রেতারা। পাহাড়ি টিলাবেষ্টিত লেবু উৎপাদনের অন্যতম এ জেলায় এখন লেবুর দাম নাগালের বাইরে। লেবুর মতো পাল্লা দিয়ে বেড়েছে কলার দামও। চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন কম এমন অজুহাতে প্রতি হালি (মধ্যম) লেবু ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। জাড়া ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা। আর কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা দরে। এ সকল পণ্যের পাইকারি ও খুচরা বাজারে দরে রয়েছে তফাৎ। হঠাৎ করে ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়া লেবু আর কলা নিয়ে বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার হট্টগোল লক্ষ্যণীয়। জানা যায় মাহে রমজানে ইফতারে শরবতের জন্য কদর বাড়ে লেবুর। আর সেহরিতে দুধ-কলার। কিন্তু রমজানের কয়েকদিন আগে থেকেই হঠাৎ দাম বেড়ে যায় লেবু ও কলার। পাহাড়ি টিলাবেষ্টিত এ জেলায় লেবু, কলা, ডাব, বেল ও আনারসের উৎপাদন ব্যাপক। বাণিজ্যিক ভিত্তিতেও হচ্ছে চাষ। এ বছর (অফ সিজনের) ফলনও হয়েছে ভালো। কিন্তু তারপরও স্থানীয় বাজারগুলোতে এ ফসলগুলোর দাম আকাশচুম্বী। হঠাৎ এমন বেড়ে চলা দামে হতভম্ব ক্রেতারা। জানা গেছে রমজানের শুরু থেকেই চলছে দাম বাড়ার এমন প্রতিযোগিতা। এর কারণ হলো খুচরাপর্যায়ে অতি মুনাফালোভী অসাধু স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট। চাষি, বাগান মালিক, আড়তদার ও খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে আলাপে পাওয়া যায় এমন সব তথ্য। জেলার প্রতিটি উপজেলার ছোট-বড় বাজারের দোকান, ফুটপাথ, ঠেলা ও ভ্যানগাড়িতে করে ফল বিক্রেতারা অত্যধিক দরে তা বিক্রি করছেন। অথচ জেলার সবচেয়ে বড় পাইকারি লেবু, কলা ও আনারস বিক্রির হাট শ্রীমঙ্গল বাজারের পাইকারি বিক্রির হাট ও জেলার অন্যান্য খুচরা বিক্রির বাজারগুলোতে দর হতবাক হওয়ার মতো তফাৎ। নানা জাতের লেবুর মধ্যে এখন মূলত জাড়া, কাগজি আর চায়না (সুগন্ধি) লেবুরই চাহিদা বেশি। খুচরা বিক্রেতাদের কাছে দাম জেনেই চোখ ছানাবড়া হচ্ছে ক্রেতাদের। কিন্তু আড়তে দেখা গেল অন্য দৃশ্য। জাড়া লেবু মধ্যম (এই সময়ে সবচেয়ে বড়) প্রতি পিস পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকা আর তা খুচরা বাজারে ১০০-১৫০ টাকা। কাগজি লেবু মধ্যম ১৪-১৬ টাকা আর খুচরা ২৫-৩০ টাকা। বড় ১৮-২০ আর খুচরা ৩০-৪০ টাকা। চায়না লেবু প্রতি পিস ১৭-২২ টাকা আর খুচরা ৩৫-৪০ টাকা। আড়তদাররা জানায় এখন শুষ্ক মৌসুম থাকায় লেবুর অফ সিজন, এ কারণে বাগানগুলোতে উৎপাদন কম তাই চাহিদা অনুযায়ী বাজারে লেবুর সরবরাহও কম থাকায় দাম একটু বেশি। তবে খুচরা বাজারে এত বেশি বাড়তি দামে কেন বিক্রি হচ্ছে তা তাদের জানা নেই। এদিকে স্থানীয় খুচরা বিক্রেতারা বলছেন তারা আড়তগুলোতে গিয়ে লেবু ক্রয় করতে পারছেন না। দর বেশি দিয়ে কিনে নিচ্ছেন বাইরের ক্রেতারা। লেবুর বাগান মালিকরা জানান এখন শুষ্ক মৌসুম তাই পর্যাপ্ত সেচ সুবিধা না থাকা, সার, ওষুধ ও শ্রমিক খরচ বাড়তি তাছাড়া এই সময়ে এমনিতেই লেবুর ফলন হয় কম, এজন্য চাহিদার সঙ্গে জোগান না থাকায় দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে খুচরা বিক্রেতারা অতিরিক্ত মুনাফা লাভের কারণে ক্রেতাদের মধ্যে লেবুর দর নিয়ে হৈ চৈ শুরু হয়েছে। এদিকে পাকা কলা, শসা, ডাব, বেলের দরও চড়া। প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা দরে। প্রতিপিস ডাব ছোট-বড় আকার ভেদে খুচরা ৮০-১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি একহালি বেল খুচরা বিক্রি হচ্ছে ২৫০-৩০০টাকা। নাগামরিচ হালি ১৫-৩০ টাকা। রমজান আসতেই কলার দাম কয়েকগুণ বৃদ্ধি নিয়ে হতভম্ব ক্রেতারা। কারণ কলা স্থানীয় পর্যায়ে যেমন উৎপাদন রয়েছে তেমনি দেশের অন্যান্য স্থান থেকেও পর্যাপ্ত কলা আসছে। তারপরও বাড়তি কলার দাম। দাম বাড়তে শুরু করেছে বেগুন, গাজর ও কাঁচামরিচেরও। বাজার ঘুরে দেখা যায়, আড়তগুলোতে দর এক থাকলেও একেক স্থানে ভিন্ন দরে বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা। একাধিক খুচরা বিক্রেতার সঙ্গে আড়তের দরের এমন তারতম্য নিয়ে কথা বললে নানা যুক্তি উপস্থাপন করলেও কেউই সদুত্তোর দিতে পারেননি। ভোক্তারা বলছেন এ সকল অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার। তবে পিয়াজ, রসুন, আদা, ডাল, চিনি, ছোলার দাম স্থিতিশীল থাকায় অনেকটা স্বস্তি মিলেছে ক্রেতাদের। আর সয়াবিন তেলের দাম ঠিক থাকলেও বাজারে ভালো কোম্পানির তেল উধাও। কারণ হিসেবে ব্যবসায়ী বলছেন তারা পর্যাপ্ত সরবরাহ পাচ্ছেন না। এদিকে অসাধু অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযানে মাঠে নেমেছে ভোক্তা অধিকার অদিপ্তরের জেলা কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। রমজানে জেলা জুড়ে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন