বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি, ভারত ও আওয়ামী লীগের যোগসাজশে হয়েছে। তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশের সংস্কার ও পরিবর্তনের যে জনআকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, ঘোষিত নতুন মন্ত্রিসভা তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নতুনত্বের পরিবর্তে এই মন্ত্রিসভায় পুরনো রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বন্দোবস্তের ধারাবাহিকতাই প্রতিফলিত হয়েছে। গতকাল রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপি’র দলীয় কার্যালয়ে সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, মন্ত্রিসভা গঠনে আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষা করা হয়নি। দেশের প্রতিষ্ঠিত বেশ কয়েকটি জেলা থেকে কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী রাখা হয়নি, যা স্পষ্ট আঞ্চলিক বৈষম্যের ইঙ্গিত দেয়। মন্ত্রিসভা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিনিধিত্বশীল হয়নি; নারীর অংশগ্রহণ, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বও পর্যাপ্ত নয়। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে যে তারুণ্য দেশের রাজনৈতিক পথ দেখিয়েছে, সেই তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশের প্রতিফলন মন্ত্রিসভায় দেখা যায়নি। যদিও কিছু তরুণকে সুযোগ দেয়া হয়েছে, তবু মন্ত্রিসভার গড় বয়স তুলনামূলক বেশি হওয়ায় নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, বিএনপি’র সংসদ সদস্যের প্রায় ৬২ শতাংশ সদস্য ব্যবসায়ী পেশার সঙ্গে যুক্ত। ব্যবসায়ী হওয়া অপরাধ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিত্ব থাকা প্রয়োজন ছিল। অর্ধেকের বেশি ব্যবসায়ী হলে তারা ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় বেশি মনোযোগী হবে, জনগণের স্বার্থ নয়। এসব ব্যবসায়ীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যকের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
টিআইবি’র একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি’র সংসদের প্রায় ৬২ শতাংশ সদস্যের সম্মিলিত ঋণের পরিমাণ ১৮ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা। দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের কথা বলা হলেও সংশ্লিষ্ট ঋণ কবে পরিশোধ করা হবে-এ প্রশ্ন জনগণের সামনে স্পষ্ট করা উচিত। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই নিজের ঘর থেকেই শুরু করতে হবে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞদের আনা হয়েছিল জাতীয় স্বার্থে। ভবিষ্যতেও তাদের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে তা রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে হওয়া উচিত।
এনসিপি আহ্বায়ক আরও বলেন, জুলাই গণ-আন্দোলনের পর জনগণ একটি সম্পূর্ণ নতুন ও দুর্নীতিমুক্ত মন্ত্রিসভা প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু ঘোষিত মন্ত্রিসভা সেই পরিবর্তন বা সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারেনি। তিনি অভিযোগ করেন, এই নির্বাচন বিএনপি, ভারত ও আওয়ামী লীগের যোগসাজশে হয়েছে। আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকের বিনিময়ে যদি আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন করা হয়, তাহলে জনগণ প্রতিরোধ করবে। সরকার ব্যর্থ হলে তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। এটা অব্যাহত থাকলে আমরা রাজনৈতিক প্রতিরোধের ডাক দেবো। সারা দেশে জেলায়, উপজেলায় বিচার চলমান আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলা হচ্ছে। আর মিডিয়ায় উৎসবের সঙ্গে প্রচার করছে এবং উৎসাহ দিচ্ছে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা আশাহত হয়েছি, নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, ফলাফলে কারচুপি হয়েছে। দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে আমরা শপথ নিয়েছি। কিন্তু প্রথমদিনেই শপথ গ্রহণ নিয়ে সরকার সবার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তিনি বলেন, এই নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। একটি ভুল ব্যাখ্যা ও সংবিধানের দোহাই দিয়ে সংস্কারের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। নতুন বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা ও গণভোটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়েছে। আশা করি, তারা দ্রুত শপথ নিবে এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামো সংস্কারে উদ্যোগ নিবে।
সংসদ অধিবেশন নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা আহ্বান জানাই দ্রুত অধিবেশন ডাকার এবং তার আগে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার।

মোঃ ইকবাল মিয়া
৫ মাস আগেনাহিদ পাটুয়ারিদের মতো লোকদের মন্ত্রী করা হলে ভাল হতো তাই না ভাই?