যুদ্ধের ময়দানে ইরান প্রবেশ করার পর থেকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে এ পথের বিঘ্ন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। এতে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘর্ষ বন্ধ হলেও হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌচলাচল এখনও পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হয়নি। সংঘাতের প্রভাবের কারণে সামুদ্রিক পরিবহন উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তবে এই অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যেও ভারত-সংশ্লিষ্ট বহু জাহাজ ঝুঁকিপূর্ণ এই জলপথ অতিক্রম করে চলেছে।
এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের অস্থিরতার মধ্যেও ভারত তার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের ভৌগোলিক নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত শক্তিশালী।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার পর সংঘাতের জবাবে ইরান একাধিকবার এই অঞ্চলে চলাচলকারী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
পর্দার আড়ালের সমন্বয়
শুক্রবার এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে ভারতের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উত্তেজনাপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে কিছু তথ্য প্রকাশ করেন। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে বিস্তারিত কার্যপদ্ধতি প্রকাশ করা হয়নি।
ভারতের বন্দর ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের শিপিং বিভাগের পরিচালক ওপেশ কুমার শর্মা বলেন, ভারত ও ইরানের মধ্যে কীভাবে সমন্বয় করা হয় কিংবা কোন জাহাজকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলা সম্ভব নয়।
তিনি জানান, এ ধরনের সমন্বয় মূলত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তিনি বলেন, জাহাজ চলাচলের অগ্রাধিকার নির্ধারণে ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়, সার মন্ত্রণালয়এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়।
ওপেশ কুমার শর্মার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের এলাকায় ভারতীয় পতাকাবাহী ১৩টি জাহাজ অবস্থান করছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি এলপিজি ট্যাংকার, পাঁচটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার, একটি রাসায়নিক বা পণ্যবাহী ট্যাংকার, তিনটি কনটেইনার জাহাজ, দুটি বাল্ক ক্যারিয়ার এবং একটি ড্রেজার।
নিরাপত্তা ঝুঁকি সত্ত্বেও ভারত এই রুটে জাহাজ চলাচল অব্যাহত রেখেছে এবং হরমুজ ব্যবহারকারী দেশের মধ্যে এখনও অন্যতম শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারির পর যেসব ভারত-সংশ্লিষ্ট জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে শিবালিক, নন্দা দেবী, জগ লাডকি, পাইন গ্যাস, জগ বসন্ত, বিডব্লিউ টাইর, বিডব্লিউ এলম এবং সবুজ সানভি।

Mohammad Harun Rashid
১ মাস আগেভারত ইরান ও ইজরায়েলের সাথে ভারসাম্য রক্ষা করে চলছে! ভারতের কিছু তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করছে, এটি ভালো খবর। উল্লেখ্য যে, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ অভিযানের সময় তেলের ঘাটতি মেটাতে ভারত বাংলাদেশকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল দিয়েছে।