আব্রাহাম অ্যাকর্ডস এক বিপজ্জনক ও গভীর অসৎ পদক্ষেপ

ডনের সম্পাদকীয়

আব্রাহাম অ্যাকর্ডস এক বিপজ্জনক ও গভীর অসৎ পদক্ষেপ

ফন্ট সাইজ:

আব্রাহাম অ্যাকর্ডসকে মধ্যপ্রাচ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তি উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। বাস্তবে, এটি ছিল ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম প্রেসিডেন্সির মেয়াদে মধ্যস্থতাকৃত একগুচ্ছ চুক্তি, যার মাধ্যমে কয়েকটি আরব দেশ ফিলিস্তিন ইস্যুর কোনো সমাধান ছাড়াই ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে।

ডনাল্ড ট্রাম্প এখন আবার এই অ্যাকর্ডস সম্প্রসারণে আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে। সাম্প্রতিক ইরান সংঘাতের পর আরও মুসলিম দেশকে এতে যুক্ত করার জন্য চাপ দিচ্ছেন। এটি একটি বিপজ্জনক এবং গভীরভাবে অসৎ পদক্ষেপ, যার পেছনে আঞ্চলিক শান্তির চেয়ে বেশি কাজ করছে ওয়াশিংটনে ইসরাইলের সমর্থক গোষ্ঠী এবং আমেরিকার কট্টর ডানপন্থী প্রো-ইসরাইল মহলের চাপ। ইরান সংঘাতকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মূল কারণ দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সামরিক উত্তেজনা। এটি হঠাৎ করেই সেই মৌলিক সমস্যাকে মুছে দেয় না, যা দশকের পর দশক মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিকে প্রভাবিত করেছে। তাহলো ফিলিস্তিনিদের অধিকারকে অস্বীকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অনুপস্থিতি।

তবুও, এই নতুন চাপের উদ্যোগটি মূলত সেই লক্ষ্যেই পরিচালিত আঞ্চলিক অস্থিরতাকে ব্যবহার করে এমন একটি প্রক্রিয়াকে পুনরুজ্জীবিত করা, যেখানে মুসলিম দেশগুলোকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে বলা হয়, অথচ ফিলিস্তিনিরা এখনও দখলদারিত্বের মধ্যে বসবাস করছে। এ কারণেই অনেক মুসলিম-অধ্যুষিত দেশ এখনো এই অ্যাকর্ডস সম্পর্কে অনিশ্চিত।

পাকিস্তানের অবস্থান বহু বছর ধরে একই রকম: ফিলিস্তিনিদের জন্য ন্যায্য সমাধান এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা ছাড়া ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়া সম্ভব নয়। এটিকে কোনো চরম অবস্থান হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি বাস্তবতার স্বীকৃতি। কারণ লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনির অভিযোগ উপেক্ষা করে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। ইসরাইলের ক্ষেত্রে, একটি বাস্তব ও ন্যায্য সমাধানের দিকে এগোনোর ইচ্ছা খুব কমই দেখা গেছে। অধিকৃত অঞ্চলে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে। গাজা যুদ্ধ, বোমাবর্ষণ এবং মানবিক বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত।

পশ্চিম তীরে সহিংসতা চলছেই। এমন পরিস্থিতিতে মুসলিম দেশগুলোকে কোনো রাজনৈতিক সমাধান বা জবাবদিহি ছাড়াই ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে বলা অন্যায়। ডনাল্ড ট্রাম্পের এই নতুন আগ্রহ মূলত ইসরাইলি লবির প্রভাব এবং আমেরিকার অতি ডানপন্থী মহলের অবস্থানকে প্রতিফলিত করে, যারা দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটনকে ইসরাইলকে আন্তর্জাতিক চাপ থেকে রক্ষা করতে প্রভাবিত করেছে। এই গোষ্ঠীগুলোর জন্য শান্তি কখনোই মূল লক্ষ্য ছিল না। লক্ষ্য ছিল ইসরাইলের আঞ্চলিক অবস্থানকে শক্তিশালী করা এবং ফিলিস্তিন ইস্যুকে ধীরে ধীরে পেছনে সরিয়ে দেয়া।
ওয়াশিংটন মুসলিম বিশ্বের জনমতকেও ভুলভাবে ব্যাখ্যা করার ঝুঁকিতে রয়েছে। সরকারগুলো কৌশলগত কারণে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে পারে। কিন্তু সাধারণ মানুষ এখনো ফিলিস্তিন ইস্যুকে মধ্যপ্রাচ্যের ন্যায়ের প্রশ্ন হিসেবে দেখে।

এই অনুভূতিকে উপেক্ষা করলে সাময়িক রাজনৈতিক সাফল্য পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু এমন চুক্তির জন্য স্থায়ী বৈধতা তৈরি করা সম্ভব নয়। বিষয়টি কেবল কূটনৈতিক অনুষ্ঠান বা রাজনৈতিক চুক্তির মাধ্যমে চাপা দেয়া যাবে না। যে কোনো ব্যবস্থা যদি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন উপেক্ষা করে, তবে তা হয়তো শিরোনাম এবং করমর্দন তৈরি করবে, কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে প্রকৃত স্থিতিশীলতা আনতে পারবে না।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন