ইসরাইলে সামরিক উপস্থিতি আরও জোরালো করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরাইলি গণমাধ্যম একে নজিরবিহীন হিসেবে উল্লেখ করেছে। আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এফ-২২ ফাইটার জেটসহ বহু রিফুয়েলিং (জ্বালানি সরবরাহকারী) বিমান ইসরাইলের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ও বিমানবন্দরে মোতায়েন করেছে।
ইসরাইলের নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান বলছে, ওয়াশিংটন তেল আবিবে এই মোতায়েন বছরের অন্তত শেষ পর্যন্ত বজায় রাখতে আগ্রহী, যা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে থাকা মার্কিন সামরিক উপস্থিতির পাশাপাশি একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
স্যাটেলাইট বিশ্লেষণের ভিত্তিতে কান জানিয়েছে, গত কয়েক মাসে ইসরাইলের ভেতরে নজিরবিহীন সংখ্যক মার্কিন যুদ্ধবিমান ও রিফুয়েলিং বিমান দেখা গেছে। বিশ্লেষণটি ইরানের
ওপর ইসরাইলি হামলা শুরুর সময় (ফেব্রুয়ারি ২৮) থেকে গত সপ্তাহ পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ ইসরাইলের ওভদা বিমানঘাঁটিতে এফ-২২ ফাইটার জেট মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশটির বেন গুরিওন ও র্যামন বিমানবন্দরে কয়েক ডজন মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান অবস্থান করছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গত সোমবার ইরানে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এতে ইরানে অন্তত চারজন নিহত হয়েছে। ইরান এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সেইসঙ্গে হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছে, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তারা ব্যাপক আকারে পাল্টা হামলা চালাবে।
অন্যদিকে শান্তিচুক্তি ঘিরে অগ্রগতি হলেও দেশ দুইটির মধ্যে এখনো অনেক বিষয়ে মতভেদ রয়েই গেছে। উভয় পক্ষই তাদের দাবি থেকে পিছু হটছে না। একইসঙ্গে দুই পক্ষেই ফের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বলে হুংকার দিচ্ছে।

Nadim Ahammed
১ মাস আগেইসরাইলের নিরাপত্তা: অনেক বিশ্লেষক ও সমালোচকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য হলো তাদের কৌশলগত মিত্র ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এর জন্য তারা সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন দিয়ে থাকে। ভূ-রাজনীতি ও প্রভাব: সমালোচকদের একাংশ মনে করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার নিজস্ব ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অঞ্চলে আধিপত্য বজায় রাখতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মুসলিম দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও কোন্দলকে নিজেদের পক্ষে ব্যবহার করে। অবিশ্বাসের পরিবেশ: বছরের পর বছর ধরে চলা সংঘাত, শান্তি চুক্তির ব্যর্থতা এবং ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষয়ক্ষতি অনেক মানুষের মনে এই ধারণাকে দৃঢ় করেছে যে, পরাশক্তিগুলো বা ইসরাইল এই অঞ্চলের স্থায়ী শান্তি চায় না।