ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালিয়েছে। এমন ঘোষণার পর মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও বেড়ে গেছে। এতে দুই দেশের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ খবর দিয়ে অনলাইন নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, সোমবার এই হামলার আগে ইসরাইল ইঙ্গিত দিয়েছিল যে তারা লেবাননে ইরান সমর্থিত যোদ্ধা গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের অভিযান আরও জোরদার করতে পারে। ইরান জানিয়েছে, কোনো চুক্তিতে যেতে হলে সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে তাদের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং একই সঙ্গে ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সংঘাত- সবকিছুর সমাধান থাকতে হবে। এতে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান পাওয়া আরও জটিল হয়ে পড়েছে। ইরানে হামলার পর বৈশ্বিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে আগস্ট ডেলিভারির জন্য প্রতি ব্যারেল প্রায় ৯৫ ডলারে পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটজুলাই ডেলিভারির জন্য প্রায় ৯২ ডলারে লেনদেন হয়। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ০.৬ শতাংশ বেড়ে যায়। এশিয়ার বাজারে, যেখানে অনেক দেশ বড় পরিমাণে তেল ও গ্যাস আমদানি করে, সেখানে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। জাপান ও চীনের মূল শেয়ারসূচক কমলেও দক্ষিণ কোরিয়ার কেওএসপিআই প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। ইউরোপে বাজার তুলনামূলক স্থির ছিল। এসটিওএক্সএক্স ৬০০ সামান্য কমে যায়, তবে বৃটেনের এফটিএসই ১০০ প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের গড় দাম মঙ্গলবার সামান্য কমে গ্যালনপ্রতি ৪.৫০ ডলারে দাঁড়ায়। যা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৫১ শতাংশ বেশি। ডিজেলের দামও ২ সেন্ট কমে ৫.৫৮ ডলারে নেমে আসে, যদিও যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তা এখনো ৪৮ শতাংশ বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দামের এই অস্থিরতা দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রাস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। অক্সফোর্ড ইকোনমিক্স বলেছে, তেলের দামের এই ধাক্কা দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রাস্ফীতির দ্বিতীয় দফার প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, এ বছর উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি প্রায় অনিবার্য এবং ২০২৭ সাল পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি বেশি থাকার ঝুঁকিও উর্ধ্বমুখী।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সাধারণত উচ্চ দাম চাহিদা কমিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর করে এবং পরে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এবার এই প্রভাব তুলনামূলকভাবে দুর্বল হতে পারে। কারণ হিসেবে তারা বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের মধ্যে নীতিগত টানাপড়েন রয়েছে- কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধীরে অর্থনীতি শীতল করতে চায়, আর সরকার ভোক্তাদের ভর্তুকি ও সহায়তার মাধ্যমে সুরক্ষা দিতে চায়।
শান্তি চুক্তি অনিশ্চিত, তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি
মানবজমিন ডেস্ক
বিশ্বজমিন
২ মাস আগে
২৬ মে (মঙ্গলবার), ২০২৬, ৮ঃ১৮ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%

হারুন উর রশীদ
২ মাস আগেআমেরিকাকে তাঁদের ইউরোপীয় ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাই বিশ্বাস করতে পারছেন না! এমতাবস্থায় ইরান কোন্ ভরসায় বিশ্বাস করবেন!!