কোরবানির ঈদ সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে গরুবাহী ট্রাকে ডাকাতির ঘটনা বেড়েই চলেছে। এতে চরম আতঙ্কে রয়েছেন খামারি ও গরু ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে গভীর রাতে চলাচলকারী ট্রাকগুলোকে লক্ষ্য করে সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্র হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে কোটি টাকার গরু লুট, চালক-হেলপারকে মারধর এবং পরিবহন ব্যাহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে নিয়মিত। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত এক মাসে দেশের বিভিন্ন জেলায় অন্তত ১২টির বেশি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
রোববার রাত পৌনে ৩টায় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে কোরবানির পশুবোঝাই একটি ট্রাক ডাকাতির শিকার হয়। এ সময় ডাকাতরা গরুর মালিক হেলাল উদ্দিন (৪৮), ট্রাক চালক মো. তৈয়ব (২১) ও জহিরুল হককে (২৮) মারধর করে ১০টি গরু ছিনতাই করে নিয়ে যায়। যার বাজার মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গরুগুলো নিয়ে ফরিদপুর থেকে ঢাকার দোহারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তারা। রাত পৌনে ৩টার দিকে শ্রীনগর উপজেলার বেজগাঁও বাসস্ট্যান্ডের একটু আগে এক্সপ্রেসওয়েতে ডাকাতির শিকার হন তারা। এর আগে ১৮ই মে দিবাগত রাত ৩টায় শরীয়তপুরের কাশিপুর এলাকায় গরুবোঝাই চারটি ট্রাকে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
এ সময় ডাকাতরা সড়কে গাছ ফেলে গতিরোধ করে ও দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে ট্রাকগুলোতে থাকা ব্যবসায়ী ও চালকদের নগদ অর্থ ও মোবাইল লুট করে নিয়ে যায়। এর একদিন আগে ১৭ই মে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে একটি গরু বহনকারী ট্রাক ডাকাতির শিকার হয়। এ সময় ডাকাতরা ট্রাকটিতে থাকা ৮টি গরু ও নগদ ৪ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। গত ৭ই মে ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ব্যারিকেড দিয়ে কোরবানির ১০টি গরু লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতরা। এ সময় তারা ট্রাকচালক আকরাম হোসেনকে কুপিয়ে আহত করে। গত ১১ই মে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে যাত্রাবাড়ীর দয়াগঞ্জের শহীদ ফারুক সড়ক এলাকায় অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ আন্তঃজেলা ডাকাতদলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশু নিয়ে ঢাকামুখী ব্যবসায়ীরা। এরইমধ্যে মহাসড়কে অপতৎপরতা বাড়িয়েছে সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্র। ব্যারিকেড বসিয়ে অস্ত্রের মুখে কয়েক মিনিটের তাণ্ডবে উধাও হয়ে যায় গরুবাহী ট্রাক নিয়ে। দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে এমন গরু লুট, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে যাত্রী, ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপদ ঈদযাত্রা নিয়েও দেখা দিয়েছে শঙ্কা। ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-রাজশাহী, ঢাকা-রংপুর, ফরিদপুর ও মানিকগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে মাঝে-মধ্যেই সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক।
র্যাব মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ বলেছেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন এবং পশুর হাটে কন্ট্রোল রুম বসানো হয়েছে। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে র্যাব। গবাদি পশু নিরাপদে হাটে নিয়ে যাওয়া নিশ্চিত করতে র্যাব’র সব ব্যাটালিয়ন তাদের নিজস্ব দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পরিচালনা করছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিভিন্ন শহরে জনসমাগম তুলনামূলকভাবে কমে যায়। এ সুযোগে অপরাধীরা যাতে পশু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা ছিনতাই করতে না পারে, সেজন্য র্যাব’র নিরাপত্তা চৌকির সংখ্যা ও টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।
কোরবানির পশুর হাটে ক্রেতাদের ভোগান্তি রোধে কন্ট্রোল রুম ও ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি নগদ লেনদেন পরিহার করে ক্যাশলেস বা কার্ডের মাধ্যমে টাকা পরিশোধে উৎসাহিত করা হচ্ছে। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ এক বিশেষ সমন্বয় সভায় বলেছেন, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও হাটের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হাটের নির্ধারিত সীমানার বাইরে কোনো পশু রাখা যাবে না। এ ছাড়া সড়কে পশুবাহী গাড়ি আটকে জোরপূর্বক হাটে নেয়ার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। জাল টাকা শনাক্তে ডিএমপি’র পক্ষ থেকে পশুর হাটগুলোতে বিশেষ মেশিন স্থাপন করা হবে।
