ঈদযাত্রায় যানবাহন ধীরগতি ও অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার অভিযোগ যাত্রীদের। সাভারের আশুলিয়া নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক এবং সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বেড়েছে ঘরমুখো মানুষের ভিড়। এসব যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে গণপরিবহনের চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়াও দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে ঢাকা এবং আশপাশের কোরবানির পশুর হাটে ঢুকছে পশুবাহী ট্রাক। সবমিলিয়ে সড়কে দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ব্যস্ততাও বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল সকালে আশুলিয়ার নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডগুলোতে শিল্পাঞ্চলের যাত্রীদের ছিল ভিড়। এ ছাড়া দুপুরের পর থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ বাড়তে থাকে। আর এ সুযোগে বাস কাউন্টারগুলো যাত্রীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ করেন সাধারণ যাত্রীরা।
এর আগে রোববার সাভার-আশুলিয়ার ১০ শতাংশ গার্মেন্টস কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। যে কারণে দুপুরের পরে মহাসড়ক দুটিতে যানবাহন ও যাত্রী চাপ অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরজমিন সাভার-আশুলিয়ার বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডগুলো ঘুরে দেখা গেছে, লোকাল বাসগুলো দূরের গন্তব্যে যাওয়ার জন্য সড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে রাখা আছে। বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, লেগুনা আবার অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে পায়ে হেঁটে বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছাচ্ছে। পরবর্তীতে তারা সড়কের পাশে থামিয়ে রাখা বাসগুলো চালক এবং কন্ডাক্টরের সঙ্গে ভাড়ার বিষয়ে দরদাম করে গাড়িতে উঠে যাচ্ছে।
এ সময় অনেকেই ভাড়া বেশি চাওয়ার কারণে গাড়িতে না ওঠে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এ ছাড়া দূরপাল্লার বাস কাউন্টারগুলোতে টিকিট কেটেও অনেক যাত্রীকে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। তবে যেসব যাত্রী বাস ভাড়া বেশির কারণে গন্তব্যে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা বিকল্প হিসেবে গরুর খালি ট্রাক কিংবা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মালবাহী ট্রাকের উপর উঠে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। মাথায় বড় বস্তা, এক হাতে ব্যাগ আর অন্য হাতে ৪ বছরের মেয়ে শিশুকে নিয়ে ফুটওভার ব্রিজ পার হচ্ছিলেন পোশাক শ্রমিক সুজন মিয়া। আর পেছনে আরেকটি বস্তা হাতে তার স্ত্রী হেঁটে যাচ্ছেন। দীর্ঘক্ষণ দরদাম করে গাড়ি ভাড়া নিয়ে পরিবার নিয়ে ছুটছেন গন্তব্যে। সুজন মিয়া জানান, একশ’ টাকার ভাড়া তিনশ’ টাকা, দুইজনের টিকিটে বেশি নিচ্ছে চারশ’ টাকা, তারপরও সামনে সিট না পেয়ে পেছনেই উঠতে হচ্ছে।
বাসের অপর যাত্রী আক্তার হোসেন বলেন, ঈদের সুযোগে বাসের লোকজন আমাদের পকেট কাটছে। প্রশাসন যেন অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় সেই দাবি জানান তিনি।
এদিকে সাভার-আশুলিয়ার লাখ লাখ শ্রমজীবী মানুষসহ নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা লোকজনের নিরাপত্তা দিতে মহাসড়ক দুটিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। যাত্রী সাধারণের জানমাল ও স্বস্তির ঈদযাত্রা নিশ্চিতের জন্য ঢাকা জেলা পুলিশের প্রায় ৩ হাজারের অধিক পুলিশ সদস্য যাত্রীদের নিরাপত্তায় এবং মহাসড়কের যানজট নিরসনে দিনরাত কাজ করছেন। রাজধানীর গাবতলীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রীবাহী পরিবহনগুলো সাভারের উপর দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলাচল করছে।
সড়কে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা জানায়, সোমবার দুপুরের পর থেকে সাভার-আশুলিয়ায় শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ কারখানা ছুটি ঘোষণার পর ঘরমুখো মানুষের ঢল নামতে শুরু করেছে। অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি টহল দিচ্ছেন বিজিবি সদস্যরা।
সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ শাজাহান বলেন, সাভার-আশুলিয়া ও ধামরাই এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ও ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিরামহীনভাবে কাজ করছেন। একইসঙ্গে ঢাকা জেলা উত্তর ট্রাফিক পুলিশ, ডিবি পুলিশসহ ভলান্টিয়াররা যার যার জায়গা থেকে তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। এবার ঈদে অতি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হিসেবে বাইপাইল থেকে শ্রীপুর পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক, যেখানে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলমান। ফলে খানাখন্দ আর মালামাল রাখার কারণে উত্তরবঙ্গে যাত্রা নিয়ে সংশয় থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে যাতায়াত নির্বিঘ্ন রেখেছেন।
ঢাকা জেলার পুলিশের টিআই, প্রশাসন (উত্তর) মোহাম্মদ রুহুল আমীন সোহেল জানান, দুপুরের পর থেকে সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। তবে আমিন বাজার থেকে নবীনগর পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের যানবাহনের চাপ নেই বললেই চলে। তবে বাইপাইল থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত সড়কে যানবাহন চলছে ধীরগতিতে। এ ছাড়া ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজের ধীরগতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় রাস্তায় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে কিছুটা যানজটের সৃষ্টি হতে পারে তবে যাত্রী ভোগান্তি কমাতে সতর্ক রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পাশাপাশি কন্ট্রোল রুম থেকে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমেও যানজট পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানান ট্রাফিক পুলিশের টিআই।
