ক্রেতা কমেছে কামারপট্টিতে

ক্রেতা কমেছে কামারপট্টিতে

ফন্ট সাইজ:

ঈদুল আজহায় কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের প্রধান হাতিয়ার দা, বঁটি, রামদা, ছুরি ও চাপাতি। সারা বছর চাহিদা না থাকলেও কোরবানির দিন এসব সামগ্রীর চাহিদা থাকে তুঙ্গে। ফলে কোরবানির সপ্তাহখানেক আগে থেকে এসব সামগ্রী তৈরির দোকান ও কারখানাগুলোতে লেগে থাকে ভিড়। তবে, এই বছর আশানুরূপ ক্রেতা আসছে না বলে জানিয়েছে বিক্রেতা ও কামাররা। কেনাকাটার জন্য অনলাইন নির্ভরতা বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতারা আর আগের মতো দোকানে আসছে না। ফলে অনেকটা অলস সময় কাটাচ্ছেন বিক্রেতারা।

শনিবার সরজমিন রাজধানীর কাওরান বাজারের কামারপট্টি ঘুরে দা, বঁটি, রামদা, ছুরি ও চাপাতি বিক্রির দোকান ও কারখানা ঘুরে দেখেছে মানবজমিনের এই প্রতিনিধি। কামারপট্টিতে গিয়ে দেখা যায়, বিক্রেতারা ডেকে ডেকে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। দোকানে কিছুক্ষণ পর পর একজন ক্রেতা আসতে দেখা গেছে। কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, কামাররা বিরামহীনভাবে এসব ধাতব জিনিসপত্র তৈরি করছেন। দিনরাত পরিশ্রম করে এসব মালামাল তৈরি করা হলেও ক্রেতাদের সমাগম ছিল খুবই কম।

দোকানগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন রকমের দা পিস ৩শ’ থেকে ৮০০শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বঁটি ২শ’ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। বিভিন্ন মানের চাইনিজ কুড়াল ৪শ’ টাকা থেকে ২২শ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। দেশীয় কুড়াল হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, পেশাদার কসাইরা সাধারণত দেশীয় স্টিলের কুড়ালগুলো কিনে নেন। কারণ সেগুলো টেকসই বেশি হয়। চাইনিজ কুড়ালগুলোর হাতল প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি হওয়ায় সেগুলো ভেঙে যায় সহজেই। ৫০ থেকে ৩৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে দেশীয় ছুরি। গরু জবাই করার ছুরির দাম কিছুটা বেশি। সাইজভেদে এসব ছুরির দাম ২শ’ টাকা থেকে ২২শ’ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। চাপাতি সাধারণত কেজিদরে বিক্রি করা হয়। প্রতি কেজি ইস্পাতের চাপাতি ৮৫০ টাকা কেজি। বিক্রীত চাপাতিগুলো ১২শ’ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। ভোলা সদর কর্মশালার লোহার দোকানের মো. বনি আমিন বলেনÑ ঈদের আর দু’দিন আছে। প্রতিবছর এই সময়টাতে দিনে ১শ’ জন ক্রেতা থাকলেও এবার ৩০ জন ক্রেতাও আসছে না। সব অনলাইনে চলে যাচ্ছে।

গত বছরও অনলাইনে অতোটা জনপ্রিয়তা ছিল না; কিন্তু এই বছর ব্যবসা একদমই অবনতির দিকে চলে গেছে। যতগুলো পণ্য দোকানে তুলেছি, যদি আগের ঐ সময় থাকতো এতক্ষণে সব শেষ হয়ে যেত। কিন্তু এখন পরিস্থিতি যা দেখছি হয়তো আগামী বছর পর্যন্ত ওগুলো থেকে যাবে। কাওরান বাজারের খাইট্টা ব্যবসায়ী হাবিব বলেন, সাধারণত এক মৌসুমে ৫শ’ থেকে ৭শ’ পিস বিক্রি করি। বিক্রি করা না হলে এগুলো লাকড়ি হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। সাধারণত আমার দোকানে ১শ’ থেকে শুরু করে ৪শ’ টাকা পর্যন্ত খাইট্টা পাওয়া যায়। কেউ কেউ হাজার টাকায়ও বিক্রি করেন। এই ব্যবসায়ী বলেন, আমি ৭শ’ পিস নিয়ে আসছি। আল্লাহর উপর ভরসা রেখে সবগুলো গাড়ি থেকে নামিয়েছি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন