আবারো বনদস্যু আতঙ্কে সুন্দরবনের জেলেরা। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে চারটি বনদস্যু দল ৩০ জেলেকে অপহরণ করেছে। তবে এদের মধ্যে এখনো অনেকেই মুক্তিপণ দিয়েও ফিরে আসেনি বলে জানা গেছে।
জেলে ও তার পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ই ফেব্রুয়ারি পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের নারকেলবাড়িয়ার চর সংলগ্ন সাগর থেকে মুক্তিপণের দাবিতে সুমন বাহিনী ১০ জেলেকে অপহরণ করে। অপহৃত জেলেরা হলো- খাইরুল ইসলাম, ফারুক, শামসুল ইসলাম, মারুফ, সদরুল ও মিলন। এছাড়া ১৪ই ফেব্রুয়ারি সুমন বাহিনী দুবলার চর সংলগ্ন এলাকার সাগর থেকে আটটি ট্রলারে হামলা চালিয়ে শরীফ বাহিনীর সদস্যরা ৮ জেলেকে অপহরণ করে। এরা হলেন, প্রশান্ত বিশ্বাস, মনিরুল, হরিপদ, রমেশ ও উজ্জ্বল। অন্যদিকে পূর্ব-সুন্দরবনের আমবাড়িয়া এলাকায় ১২টি ট্রলারে হামলা চালিয়ে বনদস্যু করিম বাহিনী ১২ জেলাকে অপহরণ করে। অপহৃত জেলেরা হলো- কালিপদ দাস, কাসেম মোড়ল, গণেশ, শিমুল, বাবু। অপহৃত জেলেদের বাড়ি খুলনার পাইকগাছা, কয়রা ও বাগেরহাট জেলার রামপাল সহ বিভিন্ন এলাকায় বলে জানা গেছে।
সুন্দরবনে জাহাঙ্গীর, সুমন, শরীফ ও করিম বাহিনী নামে বনদস্যুদের চারটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। দস্যুরা বেপরোয়া হয়ে সুন্দরবন ও সাগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। জেলেদের ধরে নিয়ে আটকে মুক্তিপণ আদায় করে ছেড়ে দিচ্ছে। যারা টাকা দিতে পারছে না তাদের বেদম মারধর করছে দস্যুরা। গত সপ্তাহে দস্যুদের মারধরে গুরুতর আহত হয়ে চারজন জেলে রামপাল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছে।
২০১৮ সালে তৎকালীন সরকার সুন্দরবনকে দস্যু মুক্ত ঘোষণা করেছিলো। জেলেরা নিরাপদে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলো। গত ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময় বিভিন্ন থানা থেকে চুরি হওয়া অস্ত্র নিয়ে একদল সন্ত্রাসী সুন্দরবনে আশ্রয় নিয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে এরাই এখন সুন্দরবনে বিভিন্ন নামে দস্যুবাহিনী গঠন করে জেলেদের উপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং লাখ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে জেলেদের অপহরণ করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মৎস্য ব্যবসায়ী বলেন, শেলারচরের বিভিন্ন সহ বিভিন্ন এলাকার জেলের কাছে মোবাইল ফোনে বনদস্যুরা জেলে ঘর প্রতি ১ লাখ টাকা করে চাঁদা দাবি করেছে। পূর্ব-সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন গত কয়েকদিনে সুন্দরবনে জেলেদের উপর দস্যুদের হামলা বেড়েছে। দস্যু দমনে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তবে হাজার হাজার জেলে মাছ ধরা বন্ধ করেছেন- এ বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন। নামপ্রকাশ না করার শর্তে এক মৎস্য ব্যবসায়ী বলেন- অসাধু বন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দুবলা জেলে পল্লী থেকে সরকারের কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার জন্য অনেক সময় ছোট খবরকে বড় করে দেখাতে সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করার কাজে সক্রিয় থাকে। সমপ্রতি দুই একটি পত্রিকায় ১০ সহস্রাধিক জেলে মাছ ধরা বন্ধ করেছে এমন খবরে তিনি বিশ্বময় প্রকাশ করে বলেন, রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার জন্য দুবলা টহল ফাঁড়িতে অবস্থানরত অসাধু বনকর্মকর্তা ও বনরক্ষীদের একটি ষড়যন্ত্র মাত্র। যার মাধ্যমে প্রশাসনকে বুঝানো সম্ভব যে জেলেরা মাছ ধরতে না পারায় রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। এ ব্যাপারে দুবলা টহল ফাঁড়ির কর্মকর্তা মিলটন রায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, গত এক সপ্তাহে সদস্যুর হাতে ৩০ জেলে অপহরণ বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে কতজন মুক্তি পেয়েছে তা তিনি জানেন না। দুবলা জেলে পল্লীতে কিছু জেলেরা মাছধরা বন্ধ করলেও বনবিভাগের কর্মীদের সহযোগিতায় আবারও মাছ ধরা শুরু হয়েছে তবে ১০ সহস্রাধিক জেলে মাছ ধরা বন্ধ করেছে এমন বিষয়টি সঠিক নয়। তবে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। রাজস্ব ফাঁকি বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
৪ বনদস্যু আতঙ্ক
এক সপ্তাহে ৩০ জেলে অপহরণ, খোঁজ মেলেনি অনেকের
আ: মালেক রেজা, শরণখোলা (বাগেরহাট) থেকে
২০ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
