৭৪ বছরেও অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্মাণ করা হয়নি শহীদ মিনার

৭৪ বছরেও অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্মাণ করা হয়নি শহীদ মিনার

ফন্ট সাইজ:

রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পেরিয়ে গেলেও বরগুনার আমতলী উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কলাগাছ ও বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী মিনার নির্মাণ করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে আসছেন। এতে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। জানা গেছে, উপজেলায় ২২৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ১৫৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৩টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ২৯টি ও ৭টি কলেজ রয়েছে। উপজেলার ১২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দুইটি কলেজ ও ৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার রয়েছে। অবশিষ্ট বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। এ ছাড়া যেগুলোতে শহীদ মিনার রয়েছে সেগুলো অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে থাকে। সরজমিন দেখা গেছে, অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, কলাগাছ ও বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে দিবস পালন করতে হয়। তারা আরও বলেন, উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন প্রকল্পে টাকা খরচ করতে পারে কিন্তু শহীদ মিনার নির্মাণে তাদের বরাদ্দ থাকে না। এগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের প্রতি চরম অবজ্ঞা। দ্রুত শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি তাদের। তক্তাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, আর্থিক সংকটে বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার করতে পারছি না। আর্থিক সংগতি হলে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সফিউল আলম বলেন, উপজেলার ৬টি বিদ্যালয় ছাড়া অবশিষ্ট বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। শহীদ মিনার নির্মাণে সরকারিভাবে উদ্যোগ নিলে তা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি আরও বলেন-শহীদ মিনার নির্মাণে স্থানীয়দের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, ভাষা শহীদদের পরিচয় জানতে ও তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা আবশ্যক। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন