নেছারাবাদ উপজেলার আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়নের মাহমুদকাঠি গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আলী আহমেদ (৭৫) নামে এক বৃদ্ধের বসতঘর পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক সাতটার দিকে গ্রামের ৯নং ওয়ার্ড রুস্তম মহাজন বাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আগুনে পরিবারটির প্রায় চার লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে বৃদ্ধ মো. আলী আহমেদ বলেন, ভোররাতে ছেলে-বউ ও নাতিসহ সবাই সেহ্রি খেয়ে নামাজ আদায় শেষে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। হঠাৎ বিছানার পাশে তীব্র গরম অনুভব করে উঠে দেখেন ঘরের ভেতরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। প্রাণ বাঁচাতে লাফিয়ে ওঠে নাতি ও পুত্রবধূকে ডেকে কোনোমতে এক কাপড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনে পুড়ে যায় ঘরের সবকিছু রমজানের জন্য আনা বাজারসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী। ‘আমরা এখন কীভাবে বাঁচবো?’ এভাবে বলতে বলতেই তিনি হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন। দিনমজুর ছেলে মো. হাসান জানান, সেহ্রি খেয়ে তিনি সকালে কাজে বের হন। কিছুক্ষণ পর মোবাইলে খবর পান তাদের ঘরে আগুন লেগেছে। ছুটে এসে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও ততক্ষণে পুড়ে গেছে ঘরের জমির দলিল, জাতীয় পরিচয়পত্র, বাজার-সদাই, কিছু গহনা, জামাকাপড় ও লেপতোষক। ‘আমাদের এখন কিছুই নেই, আমরা এক কাপড়ে আছি,’ বলেন তিনি। প্রতিবেশী মো. রফিক মিয়া জানান, আগের রাতেই ধার করে রোজার বাজার এনেছিল ওই বৃদ্ধর দিনমজুর ছেলে হাসান, যা আগুনে পুড়ে গেছে। স্থানীয় বিএনপি নেত্রী নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। তিনি সবার কাছে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। বিএনপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় মিস্ত্রী বলেন, ‘রমজানের পবিত্র মাসে যেখানে থাকার কথা ছিল স্বস্তি ও প্রস্তুতির আবহ, সেখানে এই পরিবারটির জীবনে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা ও হতাশা। তিনি পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন। নেছারাবাদ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার মো. মনিরুল ইসলাম জানান, আগুনে বৃদ্ধ আলী আহমেদের তিনলাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আগুনে তাদের ঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। খবর পেয়ে স্থানে গিয়ে আগুন নিভাতে সক্ষম হয়েছি।
এক নিমিষেই শেষ দিনমজুর পরিবারটি
নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
২০ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
