ফেসবুকে পোস্ট দেয়ার জের

কুয়েট শিক্ষার্থীকে রক্তাক্ত জখম

ফন্ট সাইজ:

ছাত্রলীগের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে শিক্ষাজীবনের মূল্যবান দুই বছর হারিয়ে ফেলা জাহিদুর রহমানের ওপর পুনরায় হামলা হয়েছে। ঈদে বাড়ি ফেরার জন্য বাস টিকিট কাটতে গিয়ে খুলনা মহানগরীর ফুলবাড়িগেট এলাকায় তাকে বেধড়ক পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনার জন্য যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করেছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কুয়েটের ইলেকট্রনিক অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র জাহিদুর রহমান। ঘটনা ঘটেছে শনিবার রাত ৮টার দিকে।

সিইসি থার্ড ইয়ার সেকেন্ড সেমিস্টারের ছাত্র জাহিদুর জানান, শনিবার পরীক্ষা শেষে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার জন্য ফুলবাড়িগেট বাস কাউন্টারে টিকিট কাটতে যান। টিকিট কেটে বের হওয়া মাত্র খানজাহান আলী থানা ছাত্রদল নেতা শুভসহ বেশ কয়েকজন তাকে ঘিরে ফেলে। তারা জাহিদুরের ফেসবুকে আইডি চেক করার জন্য মোবাইল বের করতে বলে। একপর্যায়ে পকেট থেকে মোবাইল কেড়ে নিয়ে ঘাটাঘাটি শুরু করে। এ সময় স্থানীয় যুবদল নেতা মাসুম খান ঘটনাস্থলে এসে কাঠের বার্তা দিয়ে বেধড়ক মারপিট শুরু করে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়। তিনি বাঁচার জন্য আর্তনাদ করলে কয়েকজন পথচারী তাকে উদ্ধার করে সিএনজিতে তুলে দিলে তিনি দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

রাত সোয়া ৯টার দিকে অজ্ঞাত স্থান থেকে জাহিদুর জানান, হামলাকারীরা সংখ্যায় প্রায় ২০ জন ছিল। ফেসবুকে তার দেয়া পোস্টের বিষয়ে এরা ক্ষিপ্ত ছিল বলে মনে হয়েছে। তারা জাহিদুরের মোবাইল কেড়ে নিয়েছে। তাদের আচরণ ছিল হিংস্র এবং বেপরোয়া নির্দয়ভাবে মারপিট করছিল। জীবন বাঁচাতে কুয়েটের দিকে যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় তিনি বিপরীতে শিরোমনির দিকে যেতে বাধ্য হন এবং সেখানে এক বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন। চিকিৎসা না পাওয়ায় শরীরে প্রচন্ড যন্ত্রণা বোধ করছিলেন।

ইতিপূর্বে আওয়ামী সরকারের সমালোচনা করে ফেসবুকে লেখার কারণে ২০২২ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর কুয়েট হলে থাকাবস্থায় ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন জাহিদুর। কুয়েট কর্তৃপক্ষ তাকে রক্ষার চেষ্টা না করে উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে জামিনে বেরিয়ে এলেও কুয়েটে ফেরা সম্ভব হয়নি। চব্বিশের পট পরিবর্তনের পর তিনি পুনরায় ক্যাম্পাসে ফেরেন।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন