বোরহান উদ্দিন সড়ক নিয়ে দুঃখ ঘুচবে কি কানাইঘাটবাসীর

বোরহান উদ্দিন সড়ক নিয়ে দুঃখ ঘুচবে কি কানাইঘাটবাসীর

ফন্ট সাইজ:

নির্বাচনের সময় ওয়াদার ফুলঝুড়ি ছিল। কে কার চেয়ে কাজ আগে করবেন- এ নিয়ে প্রতিশ্রুতির প্রতিযোগিতাও ছিল। নির্বাচন শেষ। সিলেট বিভাগের ১৯ আসনের মধ্যে কেবল সিলেট-৫ আসনেই বিরোধী দলীয় এমপি। তার হাত ধরেই কি বোরহান উদ্দিন সড়কের দুঃখ ঘুচবে কানাইঘাটবাসীর। সিলেট নগর থেকে কানাইঘাট পর্যন্ত প্রায় ৩৪ কিলোমিটার ওই সড়ক গত এক যুগের বেশি সময় ধরেই ভাঙাচুরা। এখন পরিস্থিতি এমন যে, গাড়িই চলে না। কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বড় বড় গর্ত রয়েছে। ভাঙা এই সড়কে কেবল যানবাহন নয়, থেমে আছে শিক্ষা, চিকিৎসা আর জীবিকার গতিপথও। টিলাগড়-কানাইঘাট গাজী বোরহান উদ্দিন সড়ক এবং কানাইঘাট-গাছবাড়ি-রাজাগঞ্জ সড়ক। এই উপজেলার মানুষ জেলা শহরে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। সরজমিন দেখা গেছে, সড়কের অধিকাংশ স্থানেই পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কটি ডোবায় পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদা আর পানির কারণে সাধারণ মানুষের পায়ে হাঁটাও দুষ্কর হয়ে পড়ে। ?স্থানীয়রা আক্ষেপ করে বলেন, আমরা কি এই দেশের নাগরিক নই? কানাইঘাট থাকলেও যোগাযোগের দিক থেকে আমরা যেন অন্য কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপের বাসিন্দা। যোগাযোগ ব্যবস্থার ধসে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মুমূর্ষু রোগী ও শিক্ষার্থীরা। জরুরি অবস্থায় কোনো রোগীকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে হলে যেখানে সময় লাগার কথা দেড় ঘণ্টা, সেখানে এখন লাগছে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা। ভাঙা রাস্তায় ঝাঁকুনিতে পথেই অনেক রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে প্রসূতি নারীদের জন্য এই পথ পাড়ি দেয়া এখন সাক্ষাৎ যমদূতের মতো। স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না। কর্দমাক্ত পথ পাড়ি দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পোশাক নষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে ছোটখাটো দুর্ঘটনা এখন নিত্যদিনের ঘটনা। সাধারণ পণ্যবাহী ট্রাক বা যানবাহন এই রাস্তায় আসতে চায় না, আর এলেও দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। বছরের পর বছর জনপ্রতিনিধিরা সংস্কারের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। চার লাখ মানুষের এই উপজেলার বাসিন্দারা এখন প্রশ্ন তুলছেন- ‘এভাবে মানুষ কিভাবে বেঁচে থাকে সংস্কারের নামে মাঝেমধ্যে কিছু তালি দেয়া হলেও কয়েক দিনের বৃষ্টিতে তা আবারো আগের অবস্থায় ফিরে যায়। টেকসই উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া এখানে লাগেনি।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন