সহিংস রাজনীতির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি এনসিপি’র

ফন্ট সাইজ:

রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের ব্যর্থতার কারণে দেশে খুন, ধর্ষণ ও নাগরিক নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, নির্বাচনের পর জনগণ ভেবেছিল পরিস্থিতির উন্নতি হবে, কিন্তু বাস্তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গতকাল বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম অডিটোরিয়ামে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের এনসিপিতে যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষক, ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশার প্রায় শতাধিক মানুষ এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখায় যোগদান করেছেন। অনুষ্ঠানে দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিবসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন যুগ্ম সদস্য সচিব শাহরিন ইরা।

আসিফ মাহমুদ বলেন, রাজনীতি শুধু সংখ্যার হিসাব নয়, মানুষের জীবনমান পরিবর্তনের মাধ্যম। ওয়ার্ড, থানা কিংবা মহল্লা পর্যায়ে রাজনীতি করে যদি মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব রাখা না যায়, তাহলে সেই রাজনীতির কোনো অর্থ থাকে না। এনসিপি মহানগরের রাজনীতিকে শুধু ক্ষমতার রাজনীতি হিসেবে নয়, বরং নগর পরিচালনায় নতুন সংস্কৃতি ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনার রাজনীতি হিসেবে দেখে।

বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, নির্বাচনের পর থেকেই খুন, ধর্ষণ ও নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে এনসিপি’র এই নেতা বলেন, মাঝে মাঝে মনে হয় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্টের ভূমিকায় বেশি আছেন। কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না।
সামপ্রতিক সময়ে ধর্ষণসহ একই ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে আসিফ বলেন, গলা কেটে হত্যা এখন যেন ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। এসব ঘটনার পেছনে কোনো অভ্যন্তরীণ বা বহিরাগত ষড়যন্ত্র আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বলা হয়েছিল নির্বাচিত সরকার না থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। কিন্তু নির্বাচনের পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি, বরং আরও খারাপ হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে জনগণ কতোদিন সহ্য করবে জানি না। বিশ্ব জুড়ে তরুণ প্রজন্ম রাজনৈতিকভাবে সচেতন হয়ে উঠছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হলে তরুণরা রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।

এনসিপি’র নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে এনসিপি’র এই নেতা বলেন, ঝিনাইদহে জুমার নামাজে যাওয়ার কর্মসূচি শেষে ছাত্রদল ও বিএনপি নেতাকর্মীরা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, তারেক রেজাসহ স্থানীয় নেতাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে হামলার যে সংস্কৃতি ছিল, সেটি আবার ফিরে আসছে। রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে সহিংসতাকে কৌশল হিসেবে নেয়া হচ্ছে।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা পূরণের আহ্বান জানিয়ে এনসিপি মুখপাত্র বলেন, বিরোধী দল বারবার সহযোগিতার বার্তা দিলেও সরকার সহিংসতার পথ বেছে নিচ্ছে। সরকার যদি ভায়োলেন্সকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে নিতে চায়, তাহলে এটা আমাদের চেয়ে বেশি কেউ পারবে না। ২০২৪ সালে আমরা সেটা দেখিয়েছি। তিনি আরও বলেন, এই লড়াই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নয়, এটা একটি প্রজন্মের সঙ্গে সংঘাত হয়ে যাবে।
ঝিনাইদহে হামলার ঘটনায় জড়িতদের ভিডিও ফুটেজ ও ছবি প্রকাশ্যে এসেছে দাবি করে তিনি বলেন, আজ রাতের মধ্যেই হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় আমাদেরও ভিন্ন পথ বেছে নিতে বাধ্য হতে হবে।

উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা একসময় আমাদের সহযোদ্ধা ছিলেন। কিন্তু তারা যদি ছাত্রলীগ-যুবলীগের মতো সন্ত্রাসী কায়দায় রাজনৈতিক আন্দোলন দমনের চেষ্টা করে, তাহলে তাদের পরিণতি আরও খারাপ হবে।

তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পরে যদি আমরা পিছিয়ে যাই, কথা বলা বন্ধ করে দেই, তাহলে ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় আসবে তারা আরও বড় স্বৈরাচার হয়ে উঠবে। সেই সুযোগ আর কাউকে দেয়া যাবে না। যোগদান অনুষ্ঠান শেষে ঝিনাইদহে এনসিপি’র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল বের করে দলটি। মিছিলটি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের সড়ক প্রদক্ষিণ করে।



ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন