সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রাতেও লোডশেডিং

সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রাতেও লোডশেডিং

ফন্ট সাইজ:

প্রথমবারের মতো ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ছাড়ালো দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন। তবে সর্বোচ্চ উৎপাদনের রাতেও বিদ্যুতের অসংখ্য গ্রাহককে লোডশেডিংয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে দেশের কোথাও কোথাও। বুধবার রাত ৯টার দিকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয় দেশে। তবে রাত ১১টা দিকে দেশ জুড়ে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ৮০০ মেগাওয়াটের বেশি ছিল। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিসিবি) ঘণ্টাপ্রতি উৎপাদন প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

এর আগে দেশে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড ছিল ১৬ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট। গত বছরের ২৩শে জুলাই ওই বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। পিজিসিবি’র তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বুধবার রাত ৯টায় (সর্বোচ্চ উৎপাদনের সময়) দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৭ হাজার ৬১০ মেগাওয়াট। ওই সময় ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়।

জ্বালানিভিত্তিক উৎপাদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই উৎপাদনের বড় অংশই এসেছে কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে। এর মধ্যে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৬ হাজার ৮১ এবং গ্যাসভিত্তিক থেকে ৫ হাজার ১৮৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। আর তরল জ্বালানিভিত্তিক কেন্দ্র থেকে আসে ৩ হাজার ৪২৬ মেগাওয়াট।

এদিকে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে রেকর্ড হলেও লোডশেডিং ঠিকই করা লেগেছে। পিজিসিবি’র ঘণ্টাপ্রতি লোডশেডিংয়ের তথ্যে দেখা যায়, রাত ১০টায় লোডশেডিং ছিল ৪৪৫ মেগাওয়াট, ১১টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮০০ মেগাওয়াটের উপরে। এ সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ওঠে ১৭ হাজার ৫৫৮ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ হয়েছে ১৬ হাজার ৬৯৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। ফলে মধ্যরাতেই দেশে এই পরিমাণ মেগাওয়াটের লোডশেডিং করতে হয়েছে।

বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সন্ধ্যার পর থেকে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবহারে সর্বোচ্চ চাপ তৈরি হয়। দেশের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বড় অংশ আসে আবাসিক খাত থেকে। এ খাতে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়, যা মূলত বাসা-বাড়ির ফ্যান, লাইট, এসি ও অন্যান্য দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত হয়। শিল্প খাতেও বিদ্যুৎ ব্যবহারের চাপ উল্লেখযোগ্য। মোট ব্যবহারের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ আসে শিল্পকারখানা থেকে, যার মধ্যে তৈরি পোশাক শিল্প (আরএমজি), টেক্সটাইল ও ভারী শিল্প অন্যতম। বাণিজ্যিক খাতে, যেমন মার্কেট, অফিস ও হোটেল-রেস্তরাঁয় প্রায় ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়। বাকি অংশ কৃষি ও সেচ কার্যক্রম, রাস্তাঘাটের আলোকসজ্জা এবং অন্যান্য জনসেবামূলক কাজে ব্যবহৃত হয়।

পাওয়ার সেলের তথ্যমতে, দেশে ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সহ বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩২ হাজার ৩২২ মেগাওয়াট। গ্রাহক সংখ্যা ৪ কোটি ৯৭ লাখ। বিতরণ লস ৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ। বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠী ১০০ ভাগ রয়েছেন। তবে বাস্তব উৎপাদন নির্ভর করে জ্বালানি সরবরাহ, কেন্দ্রগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও চাহিদার তারতম্যের ওপর।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন