নানা নাটকীয়তা, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ ও উত্তেজনার মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন। নির্বাচনকে ‘একচেটিয়া’ আখ্যা দিয়ে ভোট বর্জন করেছে জামায়াতপন্থি ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা। একইদিন ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানির অভিযোগও উঠেছে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া, ‘জয় বাংলা’ সেøাগান দেয়ায় আওয়ামী লীগপন্থি এক আইনজীবীকে লাঞ্ছিত করা হয়।
গতকাল সকাল ৯টা থেকে সমিতির মিলনায়তনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকাল ৪টায় শেষ হয়। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আদালতপাড়ায় উত্তেজনা বিরাজ করে। বিভিন্ন পক্ষের অবস্থান কর্মসূচি, বিক্ষোভ ও পাল্টাপাল্টি সেøাগানে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ৯টি পদে একক প্রার্থী থাকায় এসব পদে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি। বাকি ১২টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এসব পদে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত ২৪ জন প্রার্থী থাকলেও ভোটের আগের দিন বুধবার সন্ধ্যায় জামায়াতপন্থি ‘ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ’র ১২ জন প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। ফলে কার্যত বিএনপিপন্থি প্রার্থীরাই মাঠে থেকে যান। সকাল ১০টার দিকে আইনজীবী ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন জামায়াতপন্থি আইনজীবীরা। এ সময় তারা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে সেøাগান দেন।
অপরদিকে, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী পরিষদের নেতাকর্মীরাও পাল্টা অবস্থান নিয়ে সেøাগান দিতে থাকেন। সরজমিন দেখা যায়, ভোটকেন্দ্রে সংবাদকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে বারবার বাধা দিয়েছে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। একপর্যায়ে বিকালের দিকে ভোটকেন্দ্রে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তাদের হামলার শিকার হন চ্যানেল ওয়ানের ব্যুরো প্রধান শাহনেওয়াজ রিটন ও এখন টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন। এখন টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন মোহাম্মদ নবাব অভিযোগ করেন, ক্যামেরা চালু করতেই বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা তেড়ে এসে ক্যামেরা বন্ধ করে দেন এবং কেন্দ্র থেকে বের করে দেন। জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন পরিকল্পিতভাবে সম্পাদকীয় প্যানেলের ৯ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করে একটি পক্ষকে সুবিধা করে দিয়েছে। নির্বাচন স্থগিত ও নির্বাচন কমিশন বাতিলের দাবিতে আদালতে আবেদন করা হলেও বুধবার তা খারিজ হয়ে যায়। জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের প্যানেল ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক এডভোকেট শামসুল আলম বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। একটি পক্ষের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্যই এ নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে। তাই আমরা নির্বাচন বর্জন করেছি।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীদের অভিযোগ, তাদের কোনো সদস্যকে মনোনয়নপত্র তুলতেই দেয়া হয়নি। এ কারণে শুরু থেকেই তারা নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে আসছেন। বুধবার আদালতপাড়ায় কালো পতাকা মিছিল ও সমাবেশ করে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন ও পুনঃতফসিল ঘোষণার দাবি জানান তারা। আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবী নেতা ও সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুর রশিদ বলেন, অল্প কয়েকজন নিজেদের অনুগত ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করে একতরফাভাবে কমিটি গঠনের চেষ্টা করছে। সাধারণ আইনজীবীরা এ নির্বাচন বর্জন করেছে। তবে বিএনপিপন্থি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী পরিষদের নেতারা দাবি করেছেন, জামায়াত সমর্থিত আইনজীবীরা পূর্ণাঙ্গ প্যানেল গঠন করতে ব্যর্থ হয়ে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। বিএনপিপন্থি আইনজীবী নেতা ও বারের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হাসান আলী চৌধুরী বলেন, ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। তাই বর্জনের ঘোষণা এলেও নির্ধারিত সময়েই ভোট শুরু হয়েছে।
