আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ

ফন্ট সাইজ:

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে ২০১৫ সালে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ ৪ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে মামলার সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১৭ই জুন নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।

এই মামলার ৪ আসামির মধ্যে দু’জন বরিশালের উজিরপুর থানার সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন কারাগারে আছেন। আর পলাতক আছেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ। এদিকে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ভুক্তভোগী দু’জন হলেনÑ আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং একই উপজেলার জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, হাসানাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লা। রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে হাসানাত আবদুল্লাহ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই দু’জনকে হত্যার পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করেন। হাসানাত আবদুল্লাহ ও এহসানউল্লাহ তাদের অধস্তন পুলিশ সদস্যদের দিয়ে ২০১৫ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে গৌরনদী গোপালগঞ্জ হাইওয়ের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় ব্রিজের পশ্চিম পাশে টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লাকে গুলি করে হত্যা করে।

গুমের মামলায় আসামি হচ্ছেন বেনজীরের ক্যাশিয়ার রিফাত নিলয় জোয়ার্দার: গুমের মামলায় আসামি হচ্ছেন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ক্যাশিয়ার রিফাত নিলয় জোয়ার্দার। আগামী ২৪শে মে তাকে হাজিরের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-২। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ নির্দেশ দেন। মানবজমিনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তারেক আব্দুল্লাহ বলেন, আইসিটি বিডি কেস-৭/২৬ মামলায় প্রসিকিউশন থেকে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন করা হয়েছে। আগামী ২৪শে জুন তাকে হাজির করা হলে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, রিফাত নিলয় জোয়ার্দারের প্রত্যক্ষ নির্দেশনা ও প্রশ্রয়ে বলপূর্বক গুমের শিকার হওয়া ভুক্তভোগী মো. মশিউর রহমানসহ একাধিক ব্যক্তিকে ডিজিএফআইয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন গোপন বন্দিশালায় অবৈধভাবে আটক করে রাখা হয়। আটক থাকাকালীন সময়ে গুমকৃত ব্যক্তিদের ওপর বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়।

যার মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। ফলে তাকে গুমের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন। তদন্ত সংস্থা দাবি করেছে, ২০২৪ সালের আগস্ট মাস থেকে শুরু হওয়া এই তদন্তে ভিকটিম, তাদের পরিবার এবং বিভিন্ন নথিপত্র পর্যালোচনা করে রিফাত নিলয় জোয়ার্দারের বিরুদ্ধে এসব অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এই মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ধানমণ্ডি থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও দণ্ডবিধির পৃথক দুটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন রিফাত নিলয় জোয়ার্দার।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন