রোগীর খাবার মুখে নিয়ে ফেলে দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রোগীর খাবার মুখে নিয়ে ফেলে দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

খুলনা জেনারেল হাসপাতালের রোগীরা রেবিট ভ্যাকসিন টাকা দিয়ে কেনার ঘটনা সরজমিন দেখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ধমকালেন হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম গাজীকে। এরপর তিনি সোজা চলে যান হাসপাতালের রান্নাঘরে।

সেখানে রোগীদের জন্য তৈরি করা কুমড়োর সবজি মুখে দিয়ে ফেলে দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় রাগান্বিত হয়ে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের তরকারি আপনাদের বাসায় রান্না হলে কি খেতেন? সুপারিনটেনডেন্টকে ভালো মানের তরকারি সরবরাহের নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

গতকাল সকালে আকস্মিক খুলনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন নানা অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম দেখে ক্ষুব্ধ হন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। জেনারেল হাসপাতালের রেবিট ভ্যাকসিন কর্নার পরিদর্শনে গেলে ভুক্তভোগীরা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ঘিরে ধরেন। তারা মন্ত্রীকে জানান, হাসপাতালে ভ্যাকসিন না থাকায় বাইরে থেকে কিনে দিতে হচ্ছে রোগীদের। এ অবস্থা দেখে মন্ত্রী হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ককে ধমকান।

জানতে চান কেন এই পরিস্থিতি। জবাবে তত্ত্বাবধায়ক রফিকুল ইসলাম গাজী বলেন, সরবরাহ না থাকার কারণে সমস্যা তৈরি হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢাকায় ফোন করে জানতে পারেন ভ্যাকসিন আনার জন্য কোনো ধরনের যোগাযোগ করেননি তত্ত্বাবধায়ক। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ মন্ত্রী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান সাংবাদিকদের। রোগীদের নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করার কারণেও ক্ষুব্ধ হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার পরিদর্শন করেন।

উল্লেখ্য, বুধবার সকাল ৬টায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ও ওটি রুমে আগুন লাগে। এ সময়ে আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে নামতে অনেক রোগী ও তাদের স্বজনরা আহত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।


Nadim Ahammed

২ মাস আগে

খাবার মুখে নিয়ে ফেলে দেওয়া: রান্নাঘর পরিদর্শনের সময় রোগীদের জন্য তৈরি করা কুমড়োর সবজি মুখে দিয়েই তা মুখে রাখার অযোগ্য মনে হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে ফেলে দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।কর্তৃপক্ষকে তিরস্কার: অত্যন্ত নিম্নমানের খাবার দেখে মন্ত্রী ক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেন, "এ ধরনের তরকারি আপনাদের বাসায় রান্না হলে কি খেতেন?"মানসম্মত খাবারের নির্দেশ: তিনি তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্টকে রোগীদের জন্য পুষ্টিকর ও উন্নত মানের খাবার সরবরাহ করার কঠোর নির্দেশ দেন।ভ্যাকসিন সংকট নিয়ে অসন্তোষ: খাবারের পাশাপাশি হাসপাতালের জলাতঙ্কের (রেবিস) ভ্যাকসিন সংকটের কারণেও তিনি অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হন। রোগীরা বাইরে থেকে টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন কিনতে বাধ্য হচ্ছে দেখে তিনি হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ককে ধমক দেন।দায়িত্বে অবহেলা: ঢাকা কার্যালয়ে যোগাযোগ করে মন্ত্রী জানতে পারেন যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভ্যাকসিন আনার জন্য কোনো প্রকার যোগাযোগই করেনি, যার কারণে তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।

ম এ খালিক

২ মাস আগে

অসংখ্য ধন্যবাদ মাননীয় মন্ত্রী

মন্তব্য করুন