ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বসতবাড়ির সেফটিক ট্যাঙ্কির ভেতরে কাজ করতে গিয়ে ৪ নির্মাণ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকাল ১১টায় কালিকচ্ছ ইউনিয়নের গলানিয়া গ্রামের আলী মিয়ার বাড়ির ট্যাঙ্কির ভেতরে একে একে ৪ জন শ্রমিক প্রবেশ করে। কিন্তু ট্যাঙ্কিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। বিকাল পৌনে ৬টার দিকে জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সরাইল থানা পুলিশ ট্যাঙ্কির ভেতর থেকে নির্মাণ শ্রমিক আরমান মিয়া (১৮), ইমাম হোসেন (৩০), মেহেদী মিয়া (১৮) ও হৃদয় মিয়ার (২৪) লাশ উদ্ধার করেন।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নতুন বসতঘর নির্মাণের কাজ করছিলেন।
সম্পূর্ণ নতুনভাবে নির্মাণকাজ চলছিল সেফটি ট্যাঙ্কির। বুধবার সকাল ১১টায় ট্যাঙ্কির ভেতরে বিদ্যুতের বাতি জ্বালিয়ে কাজ করতে প্রথমে নামে শ্রমিক গলানিয়া গ্রামের রোকন আলীর ছেলে হৃদয় মিয়া। অনেকক্ষণ পরও তার কোনো সাড়া শব্দ পাচ্ছিল না কেউ। ডাকলেও জবাব পাওয়া যায়নি। তাই হৃদয়কে উদ্ধার করতে ট্যাঙ্কিতে নামে তারই খালাতো ভাই শ্রমিক ইমাম হোসেন। সেও ফিরে আসেনি। ইমাম হোসেনকে উদ্ধার করতে নামে একই গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে মেহেদী মিয়া। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ট্যাঙ্কি থেকে ৩ জনের কেউই উঠে আসছে না। তখন বাড়ির মালিক এদিক-সেদিক ঘুরতে থাকে আর ছটফট করেন। পাশের বাড়ির ভবন নির্মাণকাজে ব্যস্ত ধর্মতীর্থ গ্রামের শুক্কুর আলীর ছেলে আরমান মিয়াকে ডেকে আনেন আলী মিয়া। সাহসী ছেলে উপাধি দিয়ে ট্যাঙ্কির ভেতরের ওই ৩ শ্রমিককে উদ্ধার করতে সবশেষে আরমানকে নামান। আরমানও দ্রুত ট্যাঙ্কির ভেতরে প্রবেশ করে।
বেলা ২টা পর্যন্ত যখন ৪ জনের কেউই আর ফিরে আসছে না, তখন আলী মিয়া বিষয়টি আশপাশের লোকজনকে জানান। একসময় জেনে যায় গোটা গ্রাম। সকলেই সন্দেহ করেন, এত লম্বা সময় ট্যাঙ্কির ভেতর শ্রমিকরা জীবিত থাকার কথা না।
সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়ার নেতৃত্বে পুলিশ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে উপ-সহকারী পরিচালক মো. ফারুক আহমেদের নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল বিকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেন। তারা ট্যাঙ্কির মুখ ভেঙে বিকাল পৌনে ৬টার দিকে ভেতরে প্রবেশ করে একে একে ৪ জনের লাশ উদ্ধার করেন।
ধারণা করা হচ্ছে, ট্যাঙ্কির ভেতরে থাকা বিদ্যুৎ লাইনে স্পৃষ্ট হয়েই ৪ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। কারণ একেবারে নতুন ট্যাঙ্কিতে গ্যাস হওয়ার কথা নয়। আর বেলা ২টার পর আলী মিয়া ট্যাঙ্কির বিদ্যুতের লাইন বিচ্ছিন্ন করেছেন। অফিসার ইনচার্জ মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, ৪ জনের লাশই ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নূর
২ মাস আগেব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বসতবাড়ির সেফটিক ট্যাঙ্কির ভেতরে কাজ করতে গিয়ে ৪ নির্মাণ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকাল ১১টায় কালিকচ্ছ ইউনিয়নের গলানিয়া গ্রামের আলী মিয়ার বাড়ির ট্যাঙ্কির ভেতরে একে একে ৪ জন শ্রমিক প্রবেশ করে। কিন্তু ট্যাঙ্কিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। বিকাল পৌনে ৬টার দিকে জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সরাইল থানা পুলিশ ট্যাঙ্কির ভেতর থেকে নির্মাণ শ্রমিক আরমান মিয়া (১৮), ইমাম হোসেন (৩০), মেহেদী মিয়া (১৮) ও হৃদয় মিয়ার (২৪) লাশ উদ্ধার করেন।পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নতুন বসতঘর নির্মাণের কাজ করছিলেন।
নিরাপত্তা প্রথম!এগুলির বালাই নাই বাংলাদেশে মরার পরে নিরাপত্তা বাড়ায়!