চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (তৃতীয় প্রান্তিক জানুয়ারি-এপ্রিল) সরকারের রাজস্ব ঘাটতি ১ লাখ ৪ হাজার ৫৩৩ কোটি ১১ লাখ টাকা ছাড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থবছরের শেষ দুই মাসে আদায়ে কিছুটা গতি বাড়লেও সব মিলিয়ে অন্তত ১ লাখ কোটি টাকার বড় ঘাটতির মুখে পড়তে পারে সরকার।
বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। আলোচ্য সময়ে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৩১ হাজার ৪২১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। আয়কর, মূসক ও শুল্ক মিলিয়ে আদায় হয়েছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা।
সব মিলিয়ে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এক লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি ঘাটতি রয়েছে এনবিআর’র রাজস্ব আদায়ে। তবে রাজস্ব ঘাটতি হলেও রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি ১০.৬০ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ কোটি টাকার।
চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে শুল্ক, মূসক ও আয়কর খাত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। তবে আলোচ্য খাতগুলোতে যথাক্রমে ৮.৮৭ শতাংশ, ১১.১ ও ১১.৫৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
সর্বশেষ মাস এপ্রিলেও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি। আলোচ্য মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৫ হাজার ৬০৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, আদায় হয়েছে ৩৯ হাজার ৬০ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ৩৬ হাজার ৬০৪ কোটি ৬০ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছিল। সে হিসাবে এপ্রিলে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ।
এ মাসেও শুল্ক, মূসক ও আয়কর খাত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। তবে শুল্কে ১৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ, আয়করে ১৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে মূসক বা ভ্যাটে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ।
