অবশেষে সরাইলে চলছে খাল উদ্ধার প্রক্রিয়া

ফন্ট সাইজ:

অবশেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে চলছে সেই খালটি উদ্ধারের প্রক্রিয়া। গত মঙ্গলবার রাত থেকে খালটি উদ্ধারে জেলা উপজেলা ও স্থানীয় ইউপি পরিষদের সার্বিক সহায়তায় মাটি কাটছে এস্কেভেটর। ফলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন সদর ইউনিয়নের পানিবন্দি শতাধিক পরিবারসহ আলীনগর, নিজসরাইল ও ছোট দেওয়ানপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা। ইউএনও বলছেন, জনদুর্ভোগ লাঘবে আপাতত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করছি। তবে সকলের সহযোগিতায় খালটিকে পূর্বের রূপে ফিরিয়ে নেয়ার ইচ্ছা আছে আমাদের। সরজমিন অনুসন্ধান, ইউএনও’র দপ্তর, ভুক্তভোগী গ্রামবাসী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সরাইল সদর ইউনিয়নের ছোট দেওয়ানপাড়া থেকে উৎপত্তি হয়ে নিজসরাইল ও ছোট দেওয়ানপাড়া গ্রামের মধ্য দিয়ে গেছে ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে খালটি। এটির প্রস্থ ৩৫ ফুট।

নিজনসরাইল জিল্লুকদার পাড়া হয়ে কুট্টাপাড়ার পূর্ব দিকে তিতাস নদে আর পশ্চিমে মেঘনা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত জাফর খালে যুক্ত হয়েছে। শত বছর ধরে সরাইল বাজার, দেওয়ার দীঘি, নিজসরাইল, বড় দেওয়ানপাড়া, ছোট দেওয়ানপাড়া, আলীনগরের পানি এই খাল দিয়েই নিষ্কাশন হয়ে আসছে। কিন্তু গত ১৭-১৮ বছরে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী দ্বারা ওই খালটি দখল দূষণে বিলীন হয়ে গেছে। খালটির সরাইল-অরুয়াইল সড়কের পাশের ২-৩ শত মিটার অংশ মনগড়া মতো কালভার্ট নির্মাণ করে দখল করে নিয়েছেন। অপরিকল্পিত নিম্নমানের কালভার্ট নির্মাণের পর দুই পাশ দখলের কারণে বাকি অংশে ময়লা-আবর্জনা পলিথিন জমে পানিপ্রবাহ একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। পরিবেশ আইনকে অমান্য করে ভরাট হয়ে গেছে দেওয়ান দীঘি। এর আগেই প্রাচীন ওই দীঘির দুই দিকেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা।

ফলে সাম্প্রতিক সময়ে বৃষ্টি হলেই সরাইল বিকাল বাজার ও তিন গ্রামের বাড়িঘর রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। গত এক মাসেরও অধিক সময় ধরে নিজসরাইল আলীনগর ও ছোট দেওয়ানপাড়ার বাসিন্দারা সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। নিজসরাইল গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করে আসছে। অবর্ণনীয় কষ্ট লাঘবে তারা একাধিকবার প্রধান সড়কে উপজেলা চত্বরে একাধিকবার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যে গাড়ি দাঁড় করিয়ে তাদের কষ্টের বর্ণনা দিয়ে দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।

পরে সরাইল পরিদর্শনে আসেন জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ। পরে মতবিনিময় সভায় তিনি সরাইলের জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামকে। ওই সভায় সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বারসহ অনেকেই বলেছিলেন, দখল দূষণকৃত খাল উদ্ধার ছাড়া পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। এরই প্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার রাত থেকেই সরাইল সদরে এস্কেভেটর দিয়ে ওই খালটি উদ্ধার করার প্রক্রিয়া চলছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা করছি। পরবর্তীতে খালটিকে পূর্বের রূপে ফিরিয়ে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন