বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মুসলিম সম্প্রদায়ের পবিত্র মাস রমজানে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার, আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার এবং অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সংস্কার এগিয়ে নেয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তার দল সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় পাওয়ার পর তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সন্তান। শপথ নেয়ার মাধ্যমে তিনি দেশের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার সামনে রয়েছে একাধিক জরুরি চ্যালেঞ্জ। এর মধ্যে অন্যতম হলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর পোশাক শিল্পসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো পুনরুজ্জীবিত করা। তারেক রহমানের নতুন সরকার নিয়ে এসব কথা লিখেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে তিনি রমজানের শুভেচ্ছা জানান এবং ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মুনাফা না করার আহ্বান জানান। সাধারণত রমজানে চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে চাল, ভোজ্যতেল, চিনি ও ডালের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়। তিনি বলেন, রমজান আত্মশুদ্ধির মাস। এই সময় জনগণের কষ্ট বাড়ানো উচিত নয়। রমজানকে মুনাফার মাস হিসেবে বিবেচনা করবেন না। প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেন নাগালের মধ্যে থাকে তা নিশ্চিত করুন।
তার এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে যখন মূল্যস্ফীতি এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের বার্ষিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮.৫৮ শতাংশে, যা মে ২০২৫ সালের পর সর্বোচ্চ। খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তারেক রহমান বলেন, তার সরকার ভোক্তাদের শোষণকারী বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দেবে এবং ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা জোরদার করবে। তিনি আরও জানান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোর দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থা গ্রহণই হবে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় চূড়ান্ত কথা হবে আইনের শাসন- দলীয় প্রভাব, রাজনৈতিক ক্ষমতা বা জোরজবরদস্তি নয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় রেলওয়ে নেটওয়ার্ক সংস্কার ও সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন। পাশাপাশি রেল, সড়ক, নৌপথ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে একটি সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলেন, যার মাধ্যমে শহরের চাপ কমানো ও সংযোগ বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।
