অনলাইনেই কোরবানির পশু দেখছেন কিনছেন ক্রেতারা

অনলাইনেই কোরবানির পশু দেখছেন কিনছেন ক্রেতারা

ফন্ট সাইজ:

ঘনিয়ে এসেছে ঈদুল আজহা। কোরবানির পশু কেনার জন্য এক দশকের বেশি সময় ধরে অনলাইন মাধ্যম নতুন সুযোগ তৈরি করছে। করোনাকালে অনলাইনে পশু বিক্রি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেলেও অনলাইনে কেনাবেচার সংখ্যা আরও বেড়েছে পরবর্তী বছরগুলোতে। ওয়েবসাইট ও ফেসবুকের মাধ্যমে এখন গ্রাহকরা ঘরে বসেই কোরবানির পশু কিনতে পারছেন। এ বছরও অনলাইনে পশু কেনাবেচা শুরু হয়েছে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, অনলাইন কেনাকাটায় কোনো খাজনা বা হাসিল নেয়া হবে না।

সম্প্রতি সচিবালয়ে কোরবানির পশুর চাহিদা নিরূপণ, সরবরাহ বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, এ বছর কোরবানির জন্য ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি পশুর সরবরাহ পাওয়া যাবে। সারা দেশে সাড়ে তিন হাজারের বেশি হাটে এসব পশু বিক্রি হবে। তবে চাহিদা রয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি পশুর। গত কয়েক বছরের মতো এবারো কোরবানির সময় অনলাইনে পশু বিক্রি হবে। এ জন্য কোনো খাজনা বা হাসিল নেয়া হবে না। এ ছাড়া কোরবানির পশুর চামড়ার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য পেশাদার ও অপেশাদার কসাই এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য বলছে, ২০২১ সালে কোরবানির পশু বিক্রির নির্দিষ্ট ৬ দিনে অনলাইন পশুরহাট থেকে প্রায় সাড়ে ২৬ হাজার গবাদিপশু কেনাবেচা হয়েছে। ক্রেতারা ২০৬ কোটি টাকায় ওই সংখ্যক পশু কিনেছেন। প্রতিদিন গড়ে পশু বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ৩৮৪টি। কোরবানিযোগ্য এক লাখ ৪১ হাজার গবাদিপশুর তথ্য অনলাইনে আপলোড করা হয়েছে। ২০২৩ সালে সারা দেশে অনলাইনে মোট পশু বিক্রি হয়েছে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৯৬টি। এরমধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৮৪ হাজার গরু বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকায় সবচেয়ে বেশি ২১ হাজার ৯০২টি ছাগল-ভেড়া বিক্রি হয়েছে। অনলাইন হাটে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৯৬টি পশু বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ২৩১ কোটি ৫৮ লাখ ৯৮ হাজার টাকায়। একই প্ল্যাটফরমে ৩ লাখ ৮১ হাজার ৪২০টি গরু এবং ৮৪ হাজার ৫৪টি ছাগল-ভেড়ার দামসহ ছবি আপলোড করা হয়। সেখান থেকে কোরবানিদাতারা পছন্দের পশু কিনে নিয়েছেন। ২০২৪ সালে সারা দেশের বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফরম থেকে ৫ লাখ ৫ হাজার ৪৯৪টি পশু বিক্রি হয়েছে।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, অনলাইনে পশু বিক্রির ক্ষেত্রে তারা ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা নিজস্ব ওয়েবসাইট ব্যবহার করছেন। ফেসবুক পেজে বিক্রেতারা কোরবানির পশুর ভিডিও করে দিচ্ছেন কাঙ্ক্ষিত দামসহ। সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর কিংবা যোগাযোগের জন্য অন্যান্য নম্বর যুক্ত করে দেয়া হয় যাতে সহজেই যোগাযোগ করা যায়। অন্যদিকে, কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে কোরবানির পশুর পরিপূর্ণ তথ্য দিয়ে পোস্ট করা হয়।

২০২১ সাল থেকে অনলাইনে গরুর মার্কেটিং করছে ঢাকার মোহাম্মদপুরের আলমগীর এগ্রো। এবার বিক্রির জন্য খামারে ২৫০টা গরু পালন করা হয়েছে। আলমগীর এগ্রোর এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার সালমান বলেন, প্রতি বছর যারা নেয়, তারা খামার থেকে এসেই নেয়। তবে অনলাইনে আগে দেখে নেয়। অনলাইনে আমাদের মার্কেটিংয়ের জন্য দেই। অনলাইন থেকে দেখার পর হাটবাজারের সেল সেন্টার আছে, সেখান থেকে এসে পশু কিনতে পারবেন যে কেউ। তিনি বলেন, আগের বছরগুলোতে যারা গরু নিয়েছিল তারাই আসছে। নতুন ক্রেতারাও আসে, দেখে, তারপরে কিনে নেয়। অনলাইন গরু বিক্রির শপ হাইজিনিক এগ্রো ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মাওলানা ইলিয়াস শরিফ বলেন, অনলাইনে ক্রেতারা গরুগুলো দেখছে এবং লাইভ ওজন ও দাম জানতে পারছে। নিজের সাধ্যের মধ্যে হলে, গরু পছন্দ হলে সরাসরি তারা আসছে। এসে সরাসরি ফিজিক্যালি গরু দেখে তারপরে বুকিং করে যাচ্ছে। ওয়েবসাইটে, দামসহ ছবি, ভিডিওসহ সবকিছু দেয়া আছে। ওইখানে দেখে তারপরে হচ্ছে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দেয়। সেখান থেকে বিস্তারিত জানতে চাইছে এবং দামের ব্যাপারেও কথা হয়। তিনি বলেন, গত বছর ১২৭টি, এর আগের বছরে ১৩৭টি পশু অনলাইনে বিক্রি করতে পেরেছি। এই বছর ১৫০টি পশু বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করি।

সামারাই এগ্রোর ম্যানেজার ইরফান বলেন, ২০২০ সালের পর থেকে আমরা অনলাইনে বিক্রি করছি। গত তিনদিন আগেও আমরা একটা গরু বিক্রি করেছি। তবে গত বছরের তুলনায় এই বছর গরুর সংখ্যা কমে গেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে গো-খাদ্যের যে দাম এবং সার্বিক পরিস্থিতির কারণে প্রতিটা জিনিসের যেভাবে দাম বাড়ছে এ কারণে আমরা ফার্মাররা বিপদে আছি।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন