পারিবারিক বিরোধের জেরে শেষ পর্যন্ত রক্তাক্ত পরিণতি। টাকার দ্বন্দ্বে বাবার চোখ নষ্ট করে দেয়ার ঘটনায় ছেলে এমদাদুল হক বাদলকে ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর বাড্ডা এলাকায়। একইসঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর আসামি বাদলের স্ত্রী মোছা. রতনাকে খালাস দেয়া হয়েছে।
ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত বলেন, সাক্ষ্যপ্রমাণ, চিকিৎসা প্রতিবেদন, ফরেনসিক আলামত ও সিসিটিভি ফুটেজে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৫ই এপ্রিল উত্তর বাড্ডার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আব্দুল লতিফ একই ভবনের দ্বিতীয়তলায় এবং ছেলে বাদল তৃতীয়তলায় বসবাস করতেন। দীর্ঘদিন ধরেই তাদের মধ্যে পারিবারিক ও আর্থিক বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল।
ঘটনার দিন টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বাবা-ছেলের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে বাদল প্রায় ১০ ফুট লম্বা একটি বাঁশের মাথায় লাগানো লোহার গজাল দিয়ে বাবার বাঁ চোখে আঘাত করেন। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাত করা হয় বলে আদালতে সাক্ষীরা জানান। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় আব্দুল লতিফকে উদ্ধার করেন। প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে।
রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে সিসিটিভি ফুটেজ, চিকিৎসা সনদ, জব্দ তালিকা এবং ৯ জন সাক্ষীর জবানবন্দি উপস্থাপন করে। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাহবুবুল আলম জানান, ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা গেঞ্জি, হামলায় ব্যবহৃত বাঁশ ও লোহার গজাল উদ্ধার করা হয়। পরে সেগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
আদালত দণ্ডবিধির ৩২৬ ও ৫০৬ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাদলকে দোষী সাব্যস্ত করেন। তবে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় ৩০৭ ধারায় তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়। অন্যদিকে, পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ না থাকায় তার স্ত্রী রতনাকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।
