র‌্যাবের নাম পাল্টানোর ইঙ্গিত তথ্য উপদেষ্টার

র‌্যাবের নাম পাল্টানোর ইঙ্গিত তথ্য উপদেষ্টার

ফন্ট সাইজ:

এক অর্থে সেইভাবে র‌্যাব থাকছে না এবং নামও সম্ভবত পাল্টে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত সরকারের কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

র‌্যাব নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, সোমবার র‌্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছিল এবং তিনিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। র‌্যাব বিলুপ্তি নিয়ে যেটা বলা হয়েছে, যে দাবি হয়েছিল, এখনো র‌্যাব এক অর্থে আগের মতো করে থাকছে না। সোমবারই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, র‌্যাবের জন্য নতুন একটি আইন হবে।

রাষ্ট্রে একটি এলিট ফোর্স থাকা দরকার আছে বলে মনে করেন জাহেদ উর রহমান। বিভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি এলিট ফোর্স থাকবে, সেটা র‌্যাব নামে বা ভিন্ন নামে হোক এবং বিস্তারিত সংজ্ঞায়িত একটি আইন থাকবে।
মামলা থাকা সাংবাদিকদের বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে- এর মধ্যে দুর্নীতি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগও রয়েছে। সেগুলোর কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে তিনি উস্কানির বিষয় রয়েছে বলে মনে করেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ক্ষেত্রে তার প্রকৃত অপরাধের বিচারই হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র ও সরকার নিশ্চিত করতে চায় যে, কেউ যদি প্রকৃতপক্ষে অপরাধী হন, তবে তার সঠিক বিচার হবে। একইভাবে কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে যদি অন্যায়ভাবে বা হয়রানিমূলকভাবে মামলা হয়ে থাকে, তাহলে সেটি নিয়েও সরকার কথা বলছে। জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকারের অবস্থান হলো ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং কেউ যাতে অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেটিও নিশ্চিত করা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্টরা সঠিকভাবে বুঝতে পারবেন।

শেখ হাসিনার প্রতিও ‘ইনসাফ’ থাকবে
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিও ‘ইনসাফ’ থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনা যদি বাংলাদেশে ফেরত আসেন, তাঁকে কোনো এক্সট্রা জুডিশিয়াল (বিচারবহির্ভূত) কিছু করা হবে না। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘একটা কথা খেয়াল রাখা দরকার, শেখ হাসিনাকে আমরা ক্ষমতা থেকে হঠাতে চেয়েছি, কারণ তিনি ইনসাফ করেননি।...পরবর্তী যে বাংলাদেশ তৈরি হয়েছে, সেটার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে ইনসাফ...শত্রুর প্রতিও ইনসাফ থাকবে। শেখ হাসিনার প্রতিও আমাদের ইনসাফ থাকবে। শেখ হাসিনা যদি আসেন বাংলাদেশে। তাঁকে কোনো এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিছু আমরা করব না।’

জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, ‘ওনার (শেখ হাসিনা) বিচার হয়েছে, ওনাকে ডিফেন্ড করতে আবার দেওয়া হবে। তাতে তাঁর মৃত্যুদণ্ডাদেশ থেকে যদি তিনি মুক্তি পান, টেকনিক্যালি বলছি, সেটা আমরা মানব, আর যদি না হয়, সেটা কার্যকর হবে- এটাই হচ্ছে ইনসাফ। কারও মৃত্যুদণ্ড হওয়াও কিন্তু ইনসাফ, যে আমি আপনাকে প্রপার বিচারিক প্রক্রিয়ায় কাজটা করেছি। সংবাদ সম্মেলনে সরকারের তিন মাসের কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন।

গত সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ র‌্যাবের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বলেন, সম্পূর্ণভাবে মানবাধিকারকে সমুন্নত রেখে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করে আগামী দিনে একটি আধুনিক ও পেশাদার এলিট ফোর্স গঠনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন