বাজেট নিয়ে দেবপ্রিয়’র প্রশ্ন

বাজেট নিয়ে দেবপ্রিয়’র প্রশ্ন

ফন্ট সাইজ:

আগামী বাজেট বাস্তবসম্মত হতে যাচ্ছে, নাকি অলৌকিক প্রাক্কলন হচ্ছে- এমন প্রশ্ন তুলেছেন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, সরকারের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা এবং বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে, সেটি বাস্তবায়ন অযোগ্য। দেবপ্রিয় বলেন, বাংলাদেশ এই মুহূর্তে অর্থনৈতিক বিভিন্ন চাপের মধ্যে রয়েছে। এই সরকার অর্থনীতিকে কতটা দুর্বল অবস্থায় পেয়েছেন, সেটি এখনো তারা স্পষ্ট করতে পারেনি। তারাও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মতো একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে পারতেন, কিন্তু সেটি তারা করেননি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ফ্যামিলি কার্ড, খাল খননের মতো বিষয়গুলো নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করলেও অর্থনীতি কীভাবে স্থিতিশীল হবে সেটা নিয়ে আলোচনা খুবই সামান্য। মূল্যস্ফীতিকে কীভাবে সামাল দেবেন, কর্মসংস্থান কীভাবে বাড়ানো যাবে এই বিষয়গুলোতে তারা যথাযথভাবে ফোকাস করছেন না।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বার্ষিক উন্নয়ন বাজেট ৪০-৪৫ শতাংশ পর্যন্ত অবাস্তবায়িত থেকে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী অর্থবছরের জন্য ২০-২৫ শতাংশ উন্নয়ন বাজেট বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা পুরনো সংস্কৃতির ধারায় চলছে। এটি অর্থনীতিকে আরও চাপের মুখে ফেলে দিতে পারে। তিনি আরও বলেন, একইভাবে রাজস্ব আহরণের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে এটিও অবাস্তব। নতুন একটি সরকার দায়িত্বে এসেই রাজস্ব আহরণের টার্গেট এক থেকে দেড় লাখ কোটি বাড়িয়ে দেয়াটা পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না।

আলোচনায় উঠে আসে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সরকার প্রায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে যাচ্ছে, যা অর্জনে প্রবৃদ্ধি দরকার হবে অন্তত ৪২ শতাংশ। কিন্তু চলতি অর্থবছরেই রাজস্ব ঘাটতি প্রায় ১ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলেন, সরকার যদি কর অব্যাহতির সংস্কার না করে, তাহলে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানো বা সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণÑ কোনোটিই টেকসইভাবে সম্ভব হবে না। আলোচনায় নবম পে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
সংলাপে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের কোর গ্রুপ সদস্য ও সিপিডি ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, জনগণ যে পরিমাণ কর দিচ্ছে আর সরকারের তহবিলে যা জমা হচ্ছে, এই দুইয়ের মাঝখানের বড় ব্যবধানটাই হলো দুর্নীতি। এই ব্যবধান শূন্যে নামানো না গেলে অর্থনীতির ভিত্তি কখনোই মজবুত হবে না।

বিকেএমইএ’র সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক বলেন, দেশের ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট এবং গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যা সমাধান না হলে রাতারাতি বেসরকারি বিনিয়োগ ফিরে আসা সম্ভব নয়। অবকাঠামোগত সংকট দ্রুত সমাধান করাই এখন সরকারের বড় পরীক্ষা।


Khondoker Rahman

২ মাস আগে

Big big economic leader are highlighting nevigitive side
That’s welcome but nobody is presenting probable solutions
Which may help the government to figure out the right way.

মন্তব্য করুন