নীলফামারীর সৈয়দপুরে এক শিশু রোগীর আল্ট্রাসনোগ্রাফি (ইউএসজি) রিপোর্টে অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, প্রাথমিক পরীক্ষায় ‘নেগেটিভ’ ফলাফল দেখানো হওয়ায় যথাসময়ে রোগ শনাক্ত হয়নি। ফলে চিকিৎসায় বিলম্ব ঘটে এবং শিশুটি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে। পরে অন্য একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পুনরায় পরীক্ষা করলে সমস্যা ধরা পড়ে এবং অস্ত্রোপচার করতে হয়। ঘটনাটি এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী শিশু নুসাইবা আহনাফ আরোবী (৫) আরিফুল ইসলামের সন্তান। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ই ফেব্রুয়ারি পেটে তীব্র ব্যথা নিয়ে শিশুটিকে স্থানীয় শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সাজ্জাদ হোসেনের কাছে নেয়া হয়। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক আল্ট্রাসনোগ্রাফি করার পরামর্শ দেন। চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী শিশুটির ইউএসজি করা হয় সৈয়দপুরের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক প্রতিষ্ঠান মডার্ন ল্যাব অ্যান্ড আল্ট্রাসাউন্ডে। প্রাপ্ত রিপোর্টে কোনো জটিলতা ধরা পড়েনি বলে উল্লেখ করা হয়। ওই রিপোর্টের ভিত্তিতেই চিকিৎসক প্রয়োজনীয় ওষুধ দেন। পরিবারের অভিযোগ, ওষুধ সেবনের পরও শিশুটির ব্যথা কমেনি এবং শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। পুনরায় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে আবারো ইউএসজি করার পরামর্শ দেয়া হয়। এরপর গত ১৬ই ফেব্রুয়ারি শিশুটিকে ইউনাইটেড আল্ট্রাসাউন্ড অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করানো হলে রিপোর্টে সমস্যা শনাক্ত হয়। পরবর্তীতে শিশুটির অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে। শিশুটির পরিবারের সদস্য ও স্বপ্ন দিশারী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভাপতি খন্দকার আবিদা সুলতানা বলেন, একটি ভুল রিপোর্টের কারণে আমার সন্তান মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। অপারেশনের সময় চিকিৎসক জানিয়েছেন, আগেই সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় হলে পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণে থাকতো। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চাই। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মডার্ন ল্যাব অ্যান্ড আল্ট্রাসাউন্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাহেদুল ইসলাম বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানে ভুল রিপোর্ট দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না। রোগীর শারীরিক অবস্থা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। প্রথম পরীক্ষার সময় যে অবস্থা ছিল, পরবর্তী পরীক্ষায় তা ভিন্নভাবে প্রকাশ পেতে পারে। এ বিষয়ে নীলফামারীর সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আগে জানা ছিল না। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রথম রিপোর্টে কিছুই নয়, দ্বিতীয়টিতে ধরা পড়লো রোগ, অস্ত্রোপচারে রক্ষা শিশুর প্রাণ
সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি
১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
