দেশে এসে পৌঁছেছে জুলাই কন্যা, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের নিথর মরদেহ। সোমবার সকাল ৭টায় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার আব্দুল্লাপুরে জানাজা শেষে সেখানেই তাকে দাফন করা হবে। গতকাল মরদেহ বহনকারী ফ্লাইট ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। অভিনেত্রীর বাবা, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ মেয়ের মরদেহ গ্রহণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। বিমানবন্দর থেকে কারিনার মরদেহ নিয়ে বিকাল সাড়ে ৫টায় বনানীর বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি।
সন্ধ্যা ৭টায় বনানী ডিওএইচএস জামে মসজিদে কারিনার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাত ৮টায় বনানী দরবার শরীফ মসজিদে এবং রাত ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আরও দুই দফা জানাজা হয় কারিনার। শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানায় কারিনাকে।
লিভারের জটিলতায় আক্রান্ত কারিনা এক সপ্তাহের বেশি সময় রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্ট নেয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১১ই মে এয়ার এম্বুলেন্সে করে চেন্নাইতে নিয়ে যাওয়া হয়। ভর্তি করা হয় ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে। সেখানে তার লিভার প্রতিস্থাপন করার কথা ভাবা হলেও বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের ধকল নেয়ার মতো শারীরিক অবস্থা তার ছিল না। তাছাড়া কারিনার ফুসফুসে অনেকটা তরল জমে গিয়েছিল। তাই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এনে তাকে স্থিতিশীল করার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছিলেন চিকিৎসকরা।
তবে অস্ত্রোপচারের পর্যায়ে আর যেতে পারেননি তারা। শুক্রবার রাতে কারিনার মৃত্যু হয়। কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও গত কিছুদিন ধরে কারিনা অভিনয়ে নিয়মিত হচ্ছিলেন। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও পরিচিতি তৈরি হচ্ছিল তার।
