সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে নতুন কোনো মামলায় গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। গতকাল হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পৃথক ৫টি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার পৃথক ২টি হত্যা মামলায় গত ৩০শে মার্চ খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে বুধবার রিটটি করেন খায়রুল হকের ছেলে আশিক উল হক।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু মানবজমিনকে বলেন, এফআইআর বা এজাহারে নাম না থাকা সত্ত্বেও খায়রুল হককে একের পর এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাকে ইতিমধ্যে ৭টা মামলায় অ্যারেস্ট করা হয়েছিল। সবক’টি মামলায় তিনি জামিনে আছেন। বিশেষ করে ৫টি মামলা, যেগুলো রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগ পর্যন্ত গিয়েছিল। সেগুলো অলরেডি ডিসমিস হয়েছে। পরবর্তী দু’টো মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। এর মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানার মামলায় নাম ছিল নাÑ কিন্তু আদাবর থানার মামলায় ১৪৬ নম্বর আসামি হিসেবে নাম ছিল। সবচেয়ে হাস্যকর ব্যাপার হচ্ছে, আদবর থানার মামলায় ১৪৬ নম্বর আসামি হলেও এ মামলায় ১৪৯ থেকে ১৫৬ পর্যন্ত বিভিন্ন সংগঠনের নাম আসামি করা হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, তাঁতী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ। সাজু বলেন, আমার পেশাগত জীবনে সংগঠনের নাম দিয়ে আসামি করা হয় এমন কোনো দিন দেখিনি।
আইনজীবী সাজু আরও বলেন, যেহেতু একের পর এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে তাই ভবিষ্যতে এমন কাজ আরও ঘটতে পারে। অতএব, আজকে শুনানি শেষে কোর্ট আদেশ দিয়েছে অর্থাৎ বারবার তাকে যে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হচ্ছে, সেটা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। এমনকি তাকে কেন মুক্তি দেয়া হবে নাÑ এ মর্মে রুল জারি করেছে আদালত। এ ছাড়া ভবিষ্যতে সুনির্দিষ্ট মামলা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া তাকে যেনো কোনো মামলায় গ্রেপ্তার করা না হয় সেজন্য বলেছে। আমরা বলছি, ইতিপূর্বে তো একই অর্ডার দিয়েছে। সেলিনা হায়াৎ আইভী এবং টিপু সুলতানের মামলায় যিনি এমপি ক্যান্ডিডেট ছিলেন, তার মামলার ক্ষেত্রে একই রকম অর্ডার দিয়েছিলেন। যেদিন কোর্ট অর্ডার দিয়েছেন, তার পরবর্তীতে যেনো কোনো মামলায় অ্যারেস্ট দেখানো না হয়।
কিন্তু এই মামলার ক্ষেত্রেও একই। অর্থাৎ যে মামলাটির জামিন হয়ে যাচ্ছে। ওই রাতে নতুন করে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন আইনবহির্ভূত। ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৭-এর এ তে বলা আছে। অর্থাৎ ওয়েল ফাউন্ডেড একটা কেস হতে হবে, কেস ডায়েরি প্লেস করতে হবে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে। তারপর আসামি এবং আইও সেখানে উপস্থিত থাকতে হবে। এর শর্ত পালনের পরে কোর্টের কাছে যৌক্তিক মনে হলে তখন শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো যায়। শুনানি শেষে কোর্ট এই আদেশ দিয়েছেন।
