মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে তেল-গ্যাস খাতে অতিরিক্ত ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে তেল-গ্যাস খাতে অতিরিক্ত ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়

ফন্ট সাইজ:

পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধের কারণে দেশের তেল ও গ্যাস খাতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একইসঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আগের সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বকেয়াও পরিশোধ করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
শনিবার সকালে চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ এলাকায় চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেল-গ্যাস খাতে বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়েছে। প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ ৪০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়েছে। একইসঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আগের সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া পরিশোধ করতে হচ্ছে। আমরা একটি ঋণাত্মক অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছি।

তিনি আরও বলেন, অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে। বর্তমান পরিস্থিতি সহজ নয়। নানা চাপ মোকাবিলা করে সরকার অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে। গেল ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখালে পশ্চিম এশিয়া জুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রভাবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হয়। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য খাত নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয় করে চিকিৎসা ব্যয় সরকার বহনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সরকারি হাসপাতালের সীমাবদ্ধতার কারণে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা করা হবে। রোগীরা সেখানে চিকিৎসা নিলে বিল সরকার পরিশোধ করবে। মেডিকেল শিক্ষার মান ধরে রাখতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, পর্যাপ্ত ফ্যাকাল্টি ও অবকাঠামো নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। রাজনৈতিক প্রভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হলে প্রতিষ্ঠানের মান ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলেও মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দেশে মেডিকেল টেকনোলজিস্টের ঘাটতি রয়েছে। দক্ষ জনবলের অভাবে কোটি কোটি টাকার আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তাই মেডিকেল টেকনোলজি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। নতুন ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি দ্রুত কাজ শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণের গুণগত মান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে হাসপাতালের পার্কিং সুবিধা বাড়ানোর পরামর্শও দেন তিনি।

উল্লেখ্য, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ছিলেন এ হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তার প্রচেষ্টায় বিগত ২০০৫ সালে বেগম জিয়ার সরকার থাকার সময় নামমাত্র মূল্যে এ হাসপাতালের জন্য সরকার চার একরের অধিক জমি দান করে। হাসপাতাল পরিচালনা পর্ষদ আজ বেগম জিয়া ও তার সরকারের জনকল্যাণমূলক এ দানের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি সৈয়দ মোরশেদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর অসীম বড়ুয়া, পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম আজাদ ও ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান রানা বক্তৃতা করেন।

পরে অর্থমন্ত্রী আগ্রাবাদ মহিলা কলেজে কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা, বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ, নবীনবরণ ও বিদায় সংবর্ধনায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। বক্তৃতায় তিনি ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আইটি ভিত্তিক শিক্ষা অর্জন করতে হবে, সকলের ডিজিটাল এক্সেস থাকতে হবে, ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে যুক্ত থাকতে হবে। না হলে সবাই পিছিয়ে পড়বে। কলেজটি জাতীয়করণসহ অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, গতানুগতিক ধারায় না চলে আমাদের পরিবর্তনের ধারায় চলতে হবে। বিনা কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা ও রাখার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর মো. ফজলুল কাদের চৌধুরী, পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি মো. মফিজুল হক ও কলেজ অধ্যক্ষ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন