বাশারের সামনে প্রধান নির্বাচক হওয়ার সুযোগ

বাশারের সামনে প্রধান নির্বাচক হওয়ার সুযোগ

ফন্ট সাইজ:

ব্যক্তিগত নানা কারণে প্রধান নির্বাচকের গুরুদায়িত্ব দীর্ঘমেয়াদে চালিয়ে যেতে আগ্রহী নন গাজী আশরাফ হোসেন লিপু। যা তিনি ইতোমধ্যে বিসিবিকে ই-মেইলের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ শূন্যস্থান পূরণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড অভিজ্ঞ হাবিবুল বাশার সুমনের কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। বোর্ড মনে করে জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক মাঠের ক্রিকেটের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত আছেন। ক্রিকেটারদের বর্তমান অবস্থা ও ঘরোয়া ক্রিকেট সম্পর্কে তার ধারণা অত্যন্ত স্বচ্ছ। এসব কারণেই বিসিবি ইতোমধ্যে বাশারকে প্রধান নির্বাচক হওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি বাশার নিশ্চিত করলেও নতুন এই গুরুদায়িত্বের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা সময় চেয়েছেন। নির্বাচক হিসেবে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থাকায় তাকেই এই পদের জন্য সবচেয়ে যোগ্য মনে করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বাশার দৈনিক মানবজমিনকে বলেন, ‘হ্যাঁ, বিসিবি থেকে আমি আজই (গতকাল) প্রস্তাব পেয়েছি। তবে আমি একটু সময় নিয়েছি ভেবে দেখার জন্য। অভিজ্ঞতা তো নির্বাচক হিসেবে অনেক দিনের। তবে একটু ভাবনার জন্য সময় নিচ্ছি।’ এখন দেখার বিষয় বিসিবির দেওয়া এই নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে বাশার আবারও নির্বাচকের গুরুদায়িত্বে ফিরে আসেন কি না। লিপু সরে গেলে নির্বাচক প্যানেলে থাকবেন শুধু হাসিবুল হোসেন শান্ত। গুঞ্জন রয়েছে বাশারের সঙ্গে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকেও দেখা যেতে পারে নির্বাচক হিসেবে।
জাতীয় দলের নির্বাচক প্যানেলে হাবিবুল বাশার সুমনের পদচারণা দীর্ঘদিনের। ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা আট বছর তিনি পুরুষ দলের নির্বাচক হিসেবে কাজ করেছেন। এর আগে নারী দলের নির্বাচক হিসেবেও তার সফল পদচারণা ছিল। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তার মেয়াদের সমাপ্তি ঘটে। বর্তমানে তিনি বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। একইসাথে নারী ক্রিকেটের প্রধান হিসেবেও তিনি অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। মাঠের ক্রিকেট থেকে শুরু করে প্রশাসনিক পর্যায় পর্যন্ত তার বিচরণ, যা তাকে একজন পরিপূর্ণ অভিজ্ঞ ব্যক্তিতে পরিণত করেছে। দেশের ক্রিকেটের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংকট মোকাবিলা এবং নতুন সম্ভাবনা তৈরির জন্য বাশারের অভিজ্ঞতাকেই সবচেয়ে কার্যকর মনে করছে বিসিবি। বাশারের ক্রিকেটীয় জ্ঞান এবং ক্রিকেটারদের সাথে তার সুসম্পর্ক বোর্ডকে দারুণভাবে আশাবাদী করছে। বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ এই পরিবর্তনের বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিসিবি’র একজন পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন যে বাশারের অভিজ্ঞতার কারণেই তাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আবদুর রাজ্জাক নির্বাচক প্যানেল ছেড়ে বিসিবি পরিচালক হওয়ায় অভিজ্ঞ নেতৃত্বের অভাব তৈরি হয়েছে, যা বাশারের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে পূরণ হতে পারে। হাবিবুল বাশার সুমন ক্রিকেটীয় মহলে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য একজন ব্যক্তিত্ব। বাশার নিজেও প্রধান নির্বাচক হতে আগ্রহী বলে ঘনিষ্ঠ মহলে আলোচনা রয়েছে। তবে নানা সমীকরণের কারণে তিনি মনস্থির করতে কিছুটা সময় নিচ্ছেন। বোর্ড আশা করছে দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হবে। ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ চায় লিপুর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন প্রধান নির্বাচকের নাম ঘোষণা করতে। এতে দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আসন্ন সিরিজগুলোর প্রস্তুতি নিতে সুবিধা হবে।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফিসহ সামনে ঠাসা সূচির কারণে এখন সবার দৃষ্টি বাশারের সিদ্ধান্তের দিকে। তার হাত ধরেই নির্বাচক প্যানেলে স্থিতিশীলতা ফিরবে বলে মনে করছে ক্রিকেট মহল। সামনে ঠাসা সূচি রয়েছে জাতীয় দলের। নতুন প্রধান নির্বাচককে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। হাবিবুল বাশার সুমন সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণে কতটা প্রস্তুত তা সময় বলে দেবে। বোর্ড তাকে ফিরিয়ে আনতে যাচ্ছে। তার প্রত্যাবর্তনে নির্বাচক প্যানেলে যেমন স্থিতিশীলতা আসবে তেমনি ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাসও বাড়বে। নির্বাচক হিসেবে বাশারের আগের সাফল্যগুলো তাকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রেখেছে। তিনি দায়িত্ব নিলে নির্বাচক প্যানেলে নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন