৩ আইপিএস অফিসারকে বরখাস্ত

আরজি কর কাণ্ড

৩ আইপিএস অফিসারকে বরখাস্ত

ফন্ট সাইজ:

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালের নারী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনকাণ্ডে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বিজেপি সরকার। ঘটনার সময়ে যে তিন আইপিএস অফিসারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল তাদের সাসপেন্ড করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই সঙ্গে তিনি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভূমিকাও খতিয়ে দেখা’র ঘোষণা দিয়েছেন।

শুক্রবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালের নারী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও মৃত্যুকাণ্ড ঠিকমতো না সামলানো এবং পরিবারকে টাকা দেয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ ওঠার জন্য আইপিএস বিনীত গোয়েল, আইপিএস ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং আইপিএস অভিষেক গুপ্তাকে সাসপেন্ড করা হচ্ছে। ঘটনার সময় পুলিশের তিন আধিকারিকের বিরুদ্ধে গাফিলতি এবং প্রমাণ লোপাট সংক্রান্ত যে অভিযোগগুলো উঠেছে তার প্রশাসনিক ও বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

শুভেন্দু জানিয়েছেন, পুলিশমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পরে আরজি কর কাণ্ড ও পরবর্তী ঘটনা নিয়ে মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্র সচিব থেকে লিখিত তথ্য চেয়েছিলেন। কীভাবে পুলিশ অফিসাররা পুরো ঘটনা সামলেছিলেন, তা জানতে চেয়েছিলেন। সেই সংক্রান্ত তথ্যসহ অনুসন্ধানকারী রিপোর্ট জমা পড়েছে। তার ভিত্তিতে তিন আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আরজি কর কাণ্ডের ‘মিসহ্যান্ডেলিং’, অভয়ার পরিবারকে টাকা অফার করার অভিযোগ উঠেছিল।

২০২৪ সালের আগস্টে আরজি কর হাসপাতালে নারী চিকিৎসকের ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ উঠেছিল। প্রশ্ন উঠেছিল কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও। কখনো নির্যাতিতার নাম প্রকাশ্যে বলা, কখনো ‘ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য’ সরবরাহ, কখনো বা হাসপাতালকে ঘিরে গড়ে ওঠা ‘অসাধু চক্র’কে আড়ালের অভিযোগে বিদ্ধ হয়েছিল পুলিশ কর্তারা। উঠেছিল বিনীত, ইন্দিরাদের অপসারণের দাবিও। কিন্তু তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সে সময় আন্দোলনকারী চিকিৎসক এবং নাগরিক সমাজের দাবিকে আমল দেননি।

আরজি কর কাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ তুলে এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে ২০২৪ সালের ২রা সেপ্টেম্বর প্রতীকী শিড়দাঁড়া নিয়ে লালবাজার অভিযান করেছিলেন জুনিয়র ডাক্তার এবং আন্দোলনকারীরা। লালবাজার থেকে ৫০০ মিটার দূরে পুলিশ তাদের বলপূর্বক আটকে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছিল সে সময়। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের সেমিনার হলে ৯ই আগস্ট সকালে নারী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধারের পর সেখানে বহু মানুষ (যাদের মধ্যে বহিরাগতেরাও ছিলেন) প্রবেশ করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। ফলে কলকাতা পুলিশের বিরুদ্ধে ‘মিসহ্যান্ডেলিং’ সংক্রান্ত অভিযোগ জোরালো হয়ে উঠেছিল। এমন কি, সে বছরের সেপ্টেম্বরে সিবিআই তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পরে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছিল ঘটনার সময় টালা থানার ওসি পদে থাকা পুলিশ আধিকারিক অভিজিৎ মণ্ডলকে। বিনীতকে তার আগেই কমিশনার পদ থেকে সরানো হলেও বিতর্কের আঁচ এড়াতে পারেননি তিনি।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন