চীন থেকে কী নিয়ে ফিরলেন ট্রাম্প

চীন থেকে কী নিয়ে ফিরলেন ট্রাম্প

ফন্ট সাইজ:

হাই ভোল্টেজের দুইদিনের চীন সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দেশে ফিরেছেন। তার এই সফর ঘিরে শুধু নিজ দেশ নয় পুরো বিশ্ব তাকিয়ে ছিল। ইরান যুদ্ধের অবসান, তাইওয়ান ইস্যু, বাণিজ্য চুক্তিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য নিয়ে প্রায় এক দশক পর বুধবার মার্কিন কোনো প্রেসিডেন্ট বেইজিংয়ে যান।

ট্রাম্পের এই সফরে সঙ্গী হিসেবে ছিলেন বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি, জ্বালানি, বিমান ও আর্থিক খাতের করপোরেট প্রধানদের বিশাল বহর। এর মধ্যে ছিল অ্যাপল, এনভিডিয়া, বোয়িং, অ্যাক্সনমবিল, সিটিগ্রুপ, টেসলা, মেটাসহ বহু প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীরা।

সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকে মিলিত হন ট্রাম্প। জাঁকজমকপূর্ণ এই সফরে উভয় দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যেও বৈঠক হয়। তবে ট্রাম্পের ঐতিহাসিক এই চীন সফরের সমাপ্তি ঘটলেও এখন পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে সাড়া জাগানো চুক্তির ঘোষণা আসেনি।

ইরান যুদ্ধের অবসান নিয়েও স্পষ্ট কোনো বার্তা আসেনি। তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের চুক্তি করতে চীন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে রাজি হবে- তা নিয়েও ফলপ্রসূ কোনো ঘোষণা আসেনি।

বরং বৃহস্পতিবার শি’র সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেছেন, তিনি ইরান ইস্যুতে ধৈর্য হারিয়ে ফেলছেন। এরপর শুক্রবারও নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প এক পোস্টে বলেন, ইরানে সামরিক অভিযান চলবে।

এর আগে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা নিয়ে একমত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুইদিনের আলোচনায় দেশ দুইটির মধ্যে বড় ধরনের চুক্তির বিষয়ে কোনো ঘোষণা না এলেও ভবিষ্যতে আরও কিছু সমঝোতা আসতে পারে।

ফক্স নিউজে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছেন, শি যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানি থেকে ২০০টি বিমান কেনার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। এ ছাড়া মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, চীন কয়েক বিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশি মূল্যের মার্কিন কৃষিপণ্য কিনতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব চুক্তি তুলনামূলকভাবে জটিল নয় এবং প্রাথমিক সমঝোতা, যা বাস্তবায়ন হবে কিনা তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ এবং অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, দেশ দুইটির মধ্যে ঘোষিত অনেক চুক্তিই পরবর্তী সময়ে ভেঙে গেছে। প্রযুক্তি পণ্য রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এবং তাইওয়ান ইস্যু এখনো দুই দেশের মধ্যে বড় বিরোধের কারণ।

গত বছরের বাণিজ্য উত্তেজনার সময় দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করলেও পরবর্তীতে আবারো দ্বন্দ্ব শুরু হয়। পরে এক শীর্ষ বৈঠকের মাধ্যমে অস্থায়ী বাণিজ্য বিরতি হলেও তা ছিল সময়সীমাবদ্ধ।

ট্রাম্প-শি’র দুইদিনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে শুল্ক পুনরায় আরোপ কিংবা বাতিলের বিষয়ে নতুন কিছু জানা যায়নি।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলেছে, ট্রাম্পের চীন সফরে প্রত্যাশিত বড় কোনো বাণিজ্য চুক্তি হয়নি। এ ছাড়া ট্রাম্পের এই সফরের আগে যে ধরনের ‘মেগা ডিল’ নিয়ে আলোচনা চলছিল, বাস্তবে তা অধরাই থাকলো।

এ ছাড়া তাইওয়ান ইস্যুতে বৈঠকের প্রথম দিনে শি যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিয়েছেন। শি বলেন, তাইওয়ান প্রশ্নটি চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এটি সঠিকভাবে পরিচালিত হলে দুই দেশের সম্পর্ক সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পারে।

চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, তাইওয়ান ইস্যু সঠিকভাবে পরিচালিত না হলে দুই দেশ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে। এমনকি সরাসরি বিরোধেও পৌঁছাতে পারে। এতে পুরো চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে চলে যেতে পারে।

শি তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি সতর্কবার্তা দিলেও এই বিষয়ে একদম নিশ্চুপ ছিলেন ট্রাম্প। বরং তিনি শি’কে বন্ধু বলে আখ্যা দিয়েছেন।
সফরের দ্বিতীয় দিনে বৈঠক শেষে শি’কে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প বলেন, এটা এক অসাধারণ সফর। এটা থেকে ভালো কিছু বেরিয়ে এসেছে বলে আমি মনে করি।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের চীন সফর শেষে রয়টার্স তাদের প্রধান খবরের শিরোনামে লিখে, ট্রাম্প শি’কে প্রশংসায় ভাসিয়ে ‘সামান্য জয়’ নিয়ে চীন ছাড়লেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন