হাম ও উপসর্গে ঝরলো আরও ১২ শিশু, মৃত্যু ছাড়ালো সাড়ে চারশ’

হাম ও উপসর্গে ঝরলো আরও ১২ শিশু, মৃত্যু ছাড়ালো সাড়ে চারশ’

ফন্ট সাইজ:

দেশে হামে আক্রান্ত শিশুর মৃত্যুর মিছিল থামছে না। প্রতিদিনই গড়ে সাত শিশুর বেশি প্রাণ ঝরছে। চলমান টিকা কার্যক্রমে প্রায় শতভাগ শিশু টিকা নিয়েছে। কিন্তু মৃত্যুর লাগাম কমছে না। দু’মাসে মৃত্যু ছাড়িয়েছে সাড়ে চারশ’। হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩০৩ শিশু। গত দুই মাসে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫১ জনে। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৯২ জন এবং নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ১১১ জন। একই সময়ে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত মিলিয়ে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩০৩ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ই মার্চ থেকে ১৫ই মে পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫৫ হাজার ৬১১ জন এবং নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৭ হাজার ৪১৬ জন। এই সময়ের মধ্যে ৪০ হাজার ১৭৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৫৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে ৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং নিশ্চিত হামে মারা গেছে আরও ৪ শিশু। সব মিলিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১২ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ১৫ই মার্চ থেকে ১৫ই মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৩৭৭ জন এবং নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৭৪ জন। অর্থাৎ এই সময়ে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৪৫১ জনে।

গত দু’বছরে টিকাদান কর্মসূচিতে ছেদ পড়ায় হাম বাড়তে শুরু করে: দেশে গত দুই বছরে টিকাদান কর্মসূচিতে ছেদ পড়ায় এ বছরের মার্চ থেকে হামে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। গতকাল বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই তথ্য তুলে ধরেন। বিশেষজ্ঞরা জানান, বর্তমানে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব চলছে। তবে আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৯৫ শতাংশ সুস্থ হয়ে উঠছে। দেশে চলমান টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এরই মধ্যে ৯৫ শতাংশ শিশু এসেছে বলেও জানান তারা। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হামে শিশুমৃত্যুর হার শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ। হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের তুলনায় নিউমোনিয়ায় অনেক বেশি শিশু মারা যাচ্ছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ২৪ হাজার শিশু নিউমোনিয়ায় মারা যায়। প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০ জন শিশু এ রোগে প্রাণ হারাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. জিয়াউল হক বলেন, হাম একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সফল টিকাদান কর্মসূচির কারণে একসময় হামের প্রকোপ অনেক কমে এসেছিল। কিন্তু গত দুই বছরে টিকাদান কর্মসূচিতে ছেদ পড়ায় এ বছর মার্চ থেকে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। তিনি জানান, চলতি বছরের ১৫ই মার্চ থেকে ১৪ই মে পর্যন্ত দুই মাসে ৫৪ হাজার ৪১৯ জনের মধ্যে হাম ও হাম সদৃশ উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭০ জন হামে এবং ৩৬৯ জন হাম উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুমৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণ এখনো নিউমোনিয়া। তারা বলেন, হামের চেয়ে নিউমোনিয়ায় সবচেয়ে বেশি শিশু মারা যাচ্ছে। নীরবে এই মৃত্যু হচ্ছে। শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। চিকিৎসায় দেরি হলে জটিলতা বেড়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ১ শতাংশের ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে সময়মতো চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে। সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ডা. রুহুল আমিন বলেন, দেশে ব্রেস্ট ফিডিংয়ের হার এখন ৫৬ শতাংশ। বাকি শিশুরা মাতৃদুগ্ধের বাইরে থাকায় তাদের রোগপ্রবণতা বাড়ছে। পাশাপাশি প্যাকেটজাত খাবারের ওপর নির্ভরশীলতাও শিশুদের নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এ সময় অধ্যাপক ডা. গোলাম সারওয়ার, অধ্যাপক ডা. আসিফ মোস্তফা এবং অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল কিবরিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন