প্রাথমিকে ফেরানো হচ্ছে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের

ফন্ট সাইজ:

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে শিক্ষক সংকট। শিক্ষকদের প্রায় ৮৫ হাজার পদ খালি। সেইসঙ্গে রয়েছে শিক্ষকদের নানা ধরনের ছুটি ও প্রশিক্ষণ। ফলে ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে শ্রেণি কার্যক্রম। এই ঘাটতি মোকাবিলায় অবসরে যাওয়া শিক্ষকদের নিয়ে রিসোর্স পুুল গঠন করতে যাচ্ছে সরকার। ইতিমধ্যে পৌঁছে গেছে চিঠি। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) বার্ষিক প্রতিবেদন-২০২৪’র তথ্যানুযায়ী, দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকটের চিত্র উঠে এসেছে।

দেশে ৬৫ হাজার ৫৬৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ১ কোটি ৩৫ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তবে প্রয়োজনীয় শিক্ষক ও প্রশাসনিক নেতৃত্বের ঘাটতি প্রকট আকার ধারণ করেছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের ৬৫ হাজারের বেশি অনুমোদিত পদের মধ্যে ৩৪ হাজারেরও বেশি পদ শূন্য। মামলা ও পদোন্নতি-সংক্রান্ত জটিলতায় নিয়োগ কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে স্থবির। ফলে অনেক বিদ্যালয়ে নেতৃত্ব সংকট তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে প্রায় সাড়ে ২০ হাজার সহকারী শিক্ষকের পদও খালি রয়েছে। এতে সীমিত জনবল দিয়েই শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মান, শিক্ষার্থীদের তদারকি ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) ইতিমধ্যে অবসরপ্রাপ্ত পাঁচ শিক্ষককে নিয়ে রিসোর্স পুল গঠনে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের চিঠি দিয়েছে। রিসোর্স পুলে অন্তর্ভুক্তির জন্য চারটি শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো- প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হতে হবে; বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে, রিসোর্স পারসন হিসেবে কাজ করার আগ্রহ থাকতে হবে এবং একাডেমিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হতে হবে। এর আগে দেশের বিদ্যালয়গুলোতে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম সচল রাখতে অবসরপ্রাপ্ত ও শারীরিকভাবে সক্ষম শিক্ষকদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

তালিকাভুক্ত শিক্ষকদের মধ্য থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটিকে নির্দেশনাও দেয়া হয়। এ ছাড়াও এসব শিক্ষকদের সম্মানীরও ব্যবস্থা করবে সরকার। এ উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, অবসরে যাওয়ার পরও অধিকাংশ শিক্ষক কর্মক্ষম থাকেন। তার চাকরির সময়ে নানাবিধ পারিবারিকসহ নানা জটিলতার মধ্যে চাকরি করতে হয়। কিন্তু চাকরি জীবন শেষে এসব ভারও কমে যায়। তারা জানেন কী করতে হয়। তারা অভিজ্ঞ। এই অভিজ্ঞতা আমরা কাজে লাগাতে চাই।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন