প্রকৃতির চ্যালেঞ্জেও ইমপ্যাক্ট ক্রিকেটে চোখ বাংলাদেশের

প্রকৃতির চ্যালেঞ্জেও ইমপ্যাক্ট ক্রিকেটে চোখ বাংলাদেশের

ফন্ট সাইজ:

মিরপুর টেস্ট জিতে স্বস্তিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। পাকিস্তানের জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই সিলেট টেস্ট। মাঠের এ লড়াইয়ে নামার আগে ঠিকঠাক অনুশীলন করতে পারেনি দু’দল। কয়েকদিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটেছে। প্রকৃতির বাধার মুখে পড়ার শঙ্কা মাথায় রেখে পাকিস্তানের বিপক্ষে আজ দ্বিতীয় টেস্টে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরু সকাল ১০টায়। অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহীম আবহাওয়া পরিস্থিতিকে দেখছেন বাস্তবতা হিসেবে। যতটুকু খেলা হবে তার মধ্যে পজিটিভ ইমপ্যাক্ট রাখার প্রত্যাশা তার।

মুশফিক বলেন, ‘এটা রেইনি সিজন। মিরপুরে যেমন বৃষ্টির পরও ম্যাচ হয়েছে, এখানেও ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো। আমরা বিসিএলেও দেখেছি, রাতে বৃষ্টি হলেও সকালে সময়মতো খেলা শুরু করা গেছে। তাই আবহাওয়া অনিশ্চিত হলেও খেলা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। যদি দিনে বৃষ্টি না হয়, রেজাল্ট বের করাও সম্ভব। আমাদের চেষ্টা থাকবে যতটুকু খেলা হবে, ততটুকুতেই পজিটিভ ইমপ্যাক্ট রেখে যাওয়া।’ মুশফিকের মতে, উইকেটের চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ প্রকৃতি। তিনি বলেন, ‘ডিফারেন্ট পিচেস অফার ডিফারেন্ট চ্যালেঞ্জেস। মিরপুর থেকে যখন এখানে আসা হয়, তখন উইকেট অনুযায়ী ব্যাটিংয়ে কিছুটা ফাইন টিউন করতে হয়। তবে আমার কাছে মনে হয় এখন উইকেটের চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে আবহাওয়া।’ সিলেটের উইকেট সাধারণত ব্যাটিং বান্ধব হয়। তবে বৃষ্টির কারণে উইকেটে আর্দ্রতা বা ‘ময়শ্চার’ বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন কন্ডিশনে প্রথম দুই দিন পেসাররা বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন। মেঘলা আকাশে বল সুইং করলে ব্যাটারদের জন্য টিকে থাকা কঠিন হবে।

মুশফিক অবশ্য আশাবাদী, সিলেটের ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুব উন্নত। দিনের বেলা বৃষ্টি না হলে খেলার ফলাফল বের করা সম্ভব। মুশফিক বলেন, ‘সিলেটের উইকেট বরাবরই ভালো ব্যাটিংয়ের জন্য সহায়ক থাকে। হয়তো ময়েশ্চার থাকায় শুরুতে কিছুটা সহায়তা পেতে পারে বোলাররা।’ মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে ওপেনিংয়ে খেলা বাঁহাতি ব্যাটার সাদমান ইসলাম চোট পেয়েছেন। তার বদলে দলে জায়গা পেয়েছেন আরেক বাঁহাতি ব্যাটার জাকির হাসান। তবে ব্যাকআপ ওপেনার হিসেবে ভাবনায় থাকা তানজিদ হাসান তামিমের অভিষেক হতে পারে। সেটি হলে দেশের ১০৯তম টেস্ট অভিষিক্ত ক্রিকেটার হবেন তামিম। সবশেষ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের স্পিনার হাসান মুরাদের অভিষেক হয়েছিল। সফরকারী পাকিস্তান দলে আসতে পারে দুই পরিবর্তন। হাটুর চোটে প্রথম টেস্ট খেলতে না পারা বাবর আজম একাদশে ফিরবেন বলে জানিয়েছে দেশটির গনমাধ্যম জিও সুপার। সেক্ষেত্রে জায়গা হারাবেন ওপেনার ইমাম উল হক। তাকে বাদ দিলে ওপেনিংয়ে আওয়াইসের সঙ্গে ওপেনিংয়ে অধিনায়ক শান মাসুদকে দেখা যেতে পারে। বোলিংয়ে শাহিন শাহ আফ্রিদির জায়গা হারাতে পারেন। তার বদলে একাদশে ঢুকতে পারেন খুররাম শাহজাদ। দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে প্রথম ইনিংসে ১০১ রান করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দ্বিতীয় ইনিংসেও সেঞ্চুরির কাছে গিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। আউন হন ৮৭ রানে।

ফর্মের তুঙ্গে থাকা শান্ত নতুন মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে। সিলেট টেস্টে আর ১৪ রান করতে পারলে দেশের নবম ব্যাটার হিসেবে সাদা পোশাকে আড়াইহাজার রান করার কীর্তি গড়বেন তিনি। টেস্টে বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি সাত জয় পেয়েছেন মুশফিকুর রহীম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে শান্তের জয়ের শতাংশ মুশফিকের চেয়ে বেশি

সিলেট টেস্ট জিততে পারলে পাকিস্তানকে ঘরের মাটিতে প্রথমবার হোয়াইটওয়াশের পাশাপাশি অধিনায়ক হিসেবে জয়ের রেকর্ডে মুশফিককে ছাড়িয়ে যাবেন শান্ত। শেষ তিন টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে দাপট দেখিয়েছে বাংলাদেশ। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার সুযোগ টাইগারদের। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের টেবিলে বাংলাদেশ বর্তমানে ৬ নম্বরে আর পাকিস্তান আছে ৭ নম্বরে। সিলেট টেস্ট জিতলে বাংলাদেশের পয়েন্ট বেঁড়ে হবে ২৮। জয়ের শতাংশ ৪৪.৪৪ থেকে বেড়ে হবে ৫৬.২৫ শতাংশ। সেক্ষেত্রে ৪৮.১৫ শতাংশ নিয়ে পাঁচে থাকা ভারতের জায়গায় চলে আসবে বাংলাদেশ।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন