‘বর্ণবাদকে ন্যায্যতা দিচ্ছেন’, গুরুতর অভিযোগ মরিনহোর বিরুদ্ধে

‘বর্ণবাদকে ন্যায্যতা দিচ্ছেন’, গুরুতর অভিযোগ মরিনহোর বিরুদ্ধে

ফন্ট সাইজ:

চ্যাম্পিয়নস লীগে রিয়াল মাদ্রিদ-বেনফিকার ম্যাচের ফল ছাপিয়ে আলোচনায় ভিনিসিয়ুসের বর্ণবাদের অভিযোগ। পর্তুগিজ ক্লাবটির মাঠে রিয়ালের ১-০ গোলের জয়ের ম্যাচে এ কারণে খেলা বন্ধ থাকে প্রায় মিনিট দশেক। ম্যাচের পর একটি জায়গায় ভিনির দিকেই আঙুল তোলেন বেনফিকা কোচ জোসে মরিনহো। রিয়ালেরই এ সাবেক বসের মন্তব্যকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র বিতর্কের। ফুটবলের কিংবদন্তি ও বিশ্লেষকরা বলছেন, মরিনহো বর্ণবাদকে ন্যায্যতা দিচ্ছেন।

ম্যাচের ৫০তম মিনিটে ভিনির করা একমাত্র গোল থেকেই জয় তুলে নেয় প্রতিযোগিতার রেকর্ড চ্যাম্পিয়নরা। এরপরই ঘটে সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। এ কারণে রিয়ালের সেলেসাও তারকার দিকেও আঙুল তুলে মরিনহো মন্তব্য করেন, দুর্দান্ত গোলটি করে শুধু ‘সন্তুষ্ট’ থাকা উচিত ছিল ভিনির। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের নাকি ‘সম্মানজনকভাবে উদযাপন করা উচিত ছিল’। অথচ এমন নেচে-গেয়ে উদযাপন করতে আগে ভিনি, এমনকি যেকোনো খেলোয়াড়কেই দেখা গেছে। এসব কথার কারণেই মরিনহোকে রীতিমত ধুয়ে দিচ্ছেন ফুটবলের সাবেকরা।

আমাজন প্রাইমের স্টুডিওতে ডাচ কিংবদন্তি ক্ল্যারেন্স সেডর্ফ বলেন, ‘আমি মনে করি তিনি (মরিনহো) আবেগে ভাসছিলেন। আজ তিনি বড় ভুল করেছেন। বর্ণবাদী আচরণকে ন্যায্যতা দেয়ার মতো মন্তব্য করেছেন। তিনি যেন বলছেন, ভিনিসিয়ুস যদি উসকানি দেয়, তবে বর্ণবাদী আচরণ গ্রহণযোগ্য। এটি সম্পূর্ণ ভুল। আমরা কখনওই, কোনো পরিস্থিতিতেই বর্ণবাদকে সমর্থন করতে পারি না। আমি জানি, মরিনহো হৃদয় দিয়ে ভাবলে আমার সঙ্গে একমত হবেন। তবে তিনি নিজেকে দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রকাশ করেছেন।’

সাবেক আর্সেনাল তারকা থিও ওয়ালকট বলেন, ‘সাধারণত আমি শান্ত স্বভাবের মানুষ। ফুটবলে জোসে মরিনহোর অবদান আমি শ্রদ্ধা করি। তবে এ বিষয়ে তিনি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আজ হয়তো সেই রাত ছিল, যেদিন তার ক্যামেরার সামনে আসা উচিত ছিল না।’

মরিনহোর দাবি, উদযাপনের মাধ্যমে স্বাগতিক দর্শকদের উসকে দেন ভিনি। এমন দাবিকে ‘অন্যায়’ বলে মন্তব্য করেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কিংবদন্তি মিডফিল্ডার ওয়েন রুনি।

অন্যদিকে, সিবিএস স্পোর্টসের স্টুডিওতে লিভারপুল সাবেক ডিফেন্ডার ও বিশ্লেষক তো মরিনহোকে ‘ভণ্ড’ বলেই আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘যে কেউ নিজের মতো করে উদযাপন করতে পারে, এবং ভিনিসিয়ুসের কখনওই বর্ণবাদী আচরণের শিকার হওয়া উচিত নয়। মরিনহোর মুখে এ কথা কিছুটা ভণ্ডামির মতো শোনায়। তিনি নিজেই অতীতে বহুবার প্রতিপক্ষকে উসকে দিয়ে উদযাপন করেছেন।’

মরিনহোর নিজেরই প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড় ও দর্শকদের উসকে দেয়ার ইতিহাস কম নেই। সেসব মনে করিয়ে ক্যারাঘার আরও বলেন, ‘ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে পোর্তোর হয়ে কোস্তিনিয়ার গোলের পর টাচলাইনের পাশ দিয়ে তার দৌড় মনে আছে? আবার লিভারপুলের বিপক্ষে কাপ ফাইনালে চেলসি গোল করার পর তিনি দর্শকদের চুপ থাকতে ইঙ্গিত করেছিলেন। কতবার তিনি প্রতিপক্ষ সমর্থকদের দিকে কান লাগিয়ে উদযাপন করেছেন! তাই ভিনিসিয়ুসকে সমালোচনা করা তার জন্য কিছুটা ভণ্ডামিই। এটি চ্যাম্পিয়ন্স লীগের এক অসাধারণ গোল ছিল। সে নিজের ইচ্ছামতো উদযাপন করার পূর্ণ অধিকার রাখে।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন